ঢাকা, বাংলাদেশ। , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তাজা খবর
ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা হরমুজ প্রণালি ও ইরানে শাসক পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কো রুবিও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার

লামায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, থামছে না আইনি লড়াই

জাহিদ হাসান,বান্দরবান:
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:২৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / ১১ বার পঠিত

বান্দরবান জেলার লামা পৌরসভার সাবেক বিলছড়ি ৬ নং ওয়ার্ড এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ৩৮ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা একটি জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লিকন, নাজমুল হক রিপন, তাসফির ও রাসেল দাবি করেন, তাদের পিতা মৃত আলতাফ মিয়া (আফলাতুন হোসেন) ও মাতা মোছাম্মৎ তৈয়বের নেছা ১৯৮৭ সালে ১৩৫/৮৭ নাম্বার ছাফ বিক্রয় কবলা দলিলের মাধ্যমে একই এলাকার তবদীল হোসেনের কাছ থেকে ১.১০ একর জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।অন্যদিকে বাদীপক্ষের দাবি, জমির মূল মালিক তবদীল হোসেনের মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে তাদের পিতা মইনুল হোসেন ২০০২ সালে মিউটেশন মামলা নং-৪৭/২০০২ এর মাধ্যমে জমির রেকর্ড সংশোধন করেন। পরবর্তীতে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে বাদী পক্ষের পিতা মইনুল হোসেনের দায়ের করা অপর মামলা নং-১৮/০৮ বিজ্ঞ আদালত ২৩ জুলাই ২০০৯ সালে প্রমাণের অভাবে খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে সিভিল আপিল মামলা নং-১৩/২০১০ দায়ের করা হলেও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সেনা ক্যাম্পের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, লামায় দায়ের করা পিটিশন মামলা নং-১৬/১৪ এর প্রেক্ষিতে ভূমি অফিসের কানুনগো সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮৭ সালের সাবকাবলা দলিল ১৩৫/৮৭ দলিলমূলে ২৯৩ নং ছাগল খাইয়া মৌজার ১৪৮ নং খতিয়ানের আন্দর ১.১০ একর জমি আফলাতুন হোসেন ও মোছাম্মৎ তৈয়বের নেছার নিকট একই এলাকার বাসিন্দা বাদী পক্ষের দাদা তবদিল হোসেনের জমি বিক্রয়ের বিষয়টি সঠিক এবং সেই সময় থেকে  বিবাদীদের পরিবার জমিটি ভোগদখল করে আসছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান রেকর্ড বাদীপক্ষের নামে থাকলেও বাস্তবে জমিটি বিবাদীপক্ষের দখলে রয়েছে।সরেজমিন অনুসন্ধানে স্থানীয় একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে আফলাতুন হোসেনের পরিবার ভোগদখল করে আসছে। তবে রেকর্ড সংশোধন না হওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে মত দেন তারা।বিবাদীপক্ষ অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের ভোগদখল থাকা জমি নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অভিযোগ দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে বাদীপক্ষ দাবি করেন, তারা জমির বৈধ মালিক এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করছেন।এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে চাইলে আজিদা বেগম, খালেদা বেগম ও মোছাম্মৎ মাজেদা বেগম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এলাকার স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “তারা একটি মামলাবাজ পরিবার। বাদী পক্ষ দাদার জায়গা বাবার নামে নামজারি করে পরে নিজেদের নামে নামজারি করে এক ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিষ্পত্তি এবং প্রকৃত দখলদারদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয়রা আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, লামা এক পর্যায়ে লিকন, নাজমুল হক রিপন, তাসফির ও রাসেলের পরিবারের পক্ষে রায় প্রদান করেন। এরপরও তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা আরও বলেন বাদী পক্ষের জোড় করে জমি দখলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। জমি দখলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বাদীপক্ষ বিবাদীদের বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিচ্ছে।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

লামায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, থামছে না আইনি লড়াই

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:২৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

বান্দরবান জেলার লামা পৌরসভার সাবেক বিলছড়ি ৬ নং ওয়ার্ড এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ৩৮ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা একটি জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লিকন, নাজমুল হক রিপন, তাসফির ও রাসেল দাবি করেন, তাদের পিতা মৃত আলতাফ মিয়া (আফলাতুন হোসেন) ও মাতা মোছাম্মৎ তৈয়বের নেছা ১৯৮৭ সালে ১৩৫/৮৭ নাম্বার ছাফ বিক্রয় কবলা দলিলের মাধ্যমে একই এলাকার তবদীল হোসেনের কাছ থেকে ১.১০ একর জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।অন্যদিকে বাদীপক্ষের দাবি, জমির মূল মালিক তবদীল হোসেনের মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে তাদের পিতা মইনুল হোসেন ২০০২ সালে মিউটেশন মামলা নং-৪৭/২০০২ এর মাধ্যমে জমির রেকর্ড সংশোধন করেন। পরবর্তীতে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে বাদী পক্ষের পিতা মইনুল হোসেনের দায়ের করা অপর মামলা নং-১৮/০৮ বিজ্ঞ আদালত ২৩ জুলাই ২০০৯ সালে প্রমাণের অভাবে খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে সিভিল আপিল মামলা নং-১৩/২০১০ দায়ের করা হলেও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সেনা ক্যাম্পের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, লামায় দায়ের করা পিটিশন মামলা নং-১৬/১৪ এর প্রেক্ষিতে ভূমি অফিসের কানুনগো সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮৭ সালের সাবকাবলা দলিল ১৩৫/৮৭ দলিলমূলে ২৯৩ নং ছাগল খাইয়া মৌজার ১৪৮ নং খতিয়ানের আন্দর ১.১০ একর জমি আফলাতুন হোসেন ও মোছাম্মৎ তৈয়বের নেছার নিকট একই এলাকার বাসিন্দা বাদী পক্ষের দাদা তবদিল হোসেনের জমি বিক্রয়ের বিষয়টি সঠিক এবং সেই সময় থেকে  বিবাদীদের পরিবার জমিটি ভোগদখল করে আসছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান রেকর্ড বাদীপক্ষের নামে থাকলেও বাস্তবে জমিটি বিবাদীপক্ষের দখলে রয়েছে।সরেজমিন অনুসন্ধানে স্থানীয় একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে আফলাতুন হোসেনের পরিবার ভোগদখল করে আসছে। তবে রেকর্ড সংশোধন না হওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে মত দেন তারা।বিবাদীপক্ষ অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের ভোগদখল থাকা জমি নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অভিযোগ দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে বাদীপক্ষ দাবি করেন, তারা জমির বৈধ মালিক এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করছেন।এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে চাইলে আজিদা বেগম, খালেদা বেগম ও মোছাম্মৎ মাজেদা বেগম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এলাকার স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “তারা একটি মামলাবাজ পরিবার। বাদী পক্ষ দাদার জায়গা বাবার নামে নামজারি করে পরে নিজেদের নামে নামজারি করে এক ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিষ্পত্তি এবং প্রকৃত দখলদারদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয়রা আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, লামা এক পর্যায়ে লিকন, নাজমুল হক রিপন, তাসফির ও রাসেলের পরিবারের পক্ষে রায় প্রদান করেন। এরপরও তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা আরও বলেন বাদী পক্ষের জোড় করে জমি দখলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। জমি দখলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বাদীপক্ষ বিবাদীদের বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিচ্ছে।