২০১০ সালে World Association for Sexual Health (WAS) এর উদ্যোগে দিবসটির সূচনা হয়। এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল, যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে প্রচলিত ভয়, লজ্জা ও ভুল ধারণার পরিবর্তে বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা ও সচেতনতার পরিবেশ তৈরি করা।
যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা কি লজ্জার? নাকি নিজের শরীর, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা সচেতন মানুষের অধিকার? বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিনের নীরবতা, ভুল ধারণা ও কুসংস্কার অনেক মানুষকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ থেকে দূরে রাখে। কেউ সমস্যার কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন, কেউ অপ্রমাণিত চিকিৎসার আশ্রয় নেন, আবার কেউ সামাজিক অপমানের ভয়ে চিকিৎসা নিতেই চান না।
ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন ফর সেক্সুয়াল হেলথ (ডব্লিউএএস)-এর উদ্যোগে ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্ব যৌনস্বাস্থ্য দিবস পালিত হয়। এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল যৌনস্বাস্থ্যকে ঘিরে সামাজিক নীরবতা ও ট্যাবু কমিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করা।
যৌনস্বাস্থ্য মানে শুধু যৌনবাহিত রোগ নয়
আমাদের সমাজে যৌনস্বাস্থ্যকে অনেক সময় যৌনবাহিত সংক্রমণ বা যৌনক্ষমতার সঙ্গে সীমাবদ্ধ করে দেখা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি অসম্পূর্ণ ধারণা। যৌনস্বাস্থ্য মানুষের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক, আবেগীয় ও সামাজিক সুস্থতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। যৌনবাহিত সংক্রমণের প্রতিরোধ ও চিকিৎসার পাশাপাশি প্রজনন স্বাস্থ্য, যৌন সমস্যা, সম্পর্কের সুস্থতা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অর্থাৎ যৌনস্বাস্থ্য সামগ্রিক স্বাস্থ্য থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় বড় বাধা লজ্জা ও কুসংস্কার
যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের সমাজে এখনো নানা ভুল ধারণা প্রচলিত। অনেকেই মনে করেন যৌন সমস্যা মানেই চরিত্রের সমস্যা, যৌনবাহিত সংক্রমণ মানেই অনৈতিক জীবনযাপন অথবা যৌন সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া লজ্জার বিষয়। এ ধরনের ধারণা চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
যৌন সমস্যার পেছনে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, হরমোনের পরিবর্তন, স্নায়বিক সমস্যা, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপসহ নানা কারণ থাকতে পারে। তাই যৌন সমস্যাকে নৈতিকতার প্রশ্ন না বানিয়ে স্বাস্থ্যগত সমস্যা হিসাবে মূল্যায়ন করা দরকার।
-লেখক সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা

শেখ রিফান আহমেদ, সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা 


























