ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ০২ মে ২০২৬
টানা বর্ষনে রাস্তাঘাটের ভাঙন

লামা পৌরসভায় সপ্তাহকাল ধরে জলাবদ্ধতায় ৬০ পরিবার

জাহিদ হাসান, বান্দরবান প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৯:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
  • / ৩৩১ বার পঠিত
লামা পৌরসভার দুর্যোগ কবলিত বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন উপজেলা ও পৌর প্রশাসক নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন। ২৮ মে রাতে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড মধুঝিরি গ্রামে একটি চলাচল রাস্তা ভেঙে যায়। একই সময় পানির স্রোতে রাস্তার পাশে ঝিরির বড় একটি গাইড ওয়ালও ধ্বসে পড়েছে। এর ফলে শতাধিক পরিবারের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় গ্রামের আরেকটি জনবসতি সপ্তাহকাল ধরে ৩-৫ ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রশাসক সরেজমিনে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় ভুক্তভোগী গ্রামবাসিরা জানান, স্থানীয় ২/৪ জন বাসিন্দাদের লোলুপতায় জলাবদ্ধতা ও রাস্তা ঘাট ভেঙে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিগত দিনে পৌর কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততাকেও দায় করেন বাসিন্দারা। কারন হিসেবে জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ রাস্তা করার সময় দলীয়করণের কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে পারেন নাই। ৩/৪ জন বাসিন্দা দলীয় দাপট দেখিয়ে রাস্তা ও ড্রেনের জায়গা বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে।
জসিম উদ্দিন, জাকের হোসেনসহ কয়েক জন বাসিন্দা জানান, বিগত দিনে এসবের প্রতিবাদ করায়, তাদেরকে মারধর করেছিল দখলকারীরা। এর জন্য পৌর প্রকৌশল বিভাগককে দায়ী করেন স্থানীয়রা। কারণ স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করে প্রকল্প ডিজাইন করেন নাই তারা। এর ফলে সরকারের অর্থ অপচয় একই সাথে জন দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। অপরদিকে গ্রামের আরেকটি জায়গায় পৌরসভার ২৪-২৫ অর্থ বছরে বরাদ্দে নির্মাণাধীন একটি মাস্টার ড্রেনের কাজ বন্ধ করে দেয় মৃত আমির হোসেনের পরিবার।
এর ফলে ২৮ মে রাতে  বৃষ্টির পানির স্রোতে গ্রামের রাস্তা ভেঙে শতাধিক পরিবারে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। সেখানে ঝিরি ও রাস্তার রক্ষায় বড় একটি গাইড ওয়াল ধ্বসে গেছে। ভেঙে যাচ্ছে সমাজের একাংশের একটি কবরস্থান ও ঝিরির পানি ব্যবহারের জন্য নির্মিত বড় একটি সিঁড়ি-ঘাটলা। ২৯ মে লামা উপজেলা ও পৌর প্রশাসক নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন সরেজমিন দেখতে যান।
এ সময় স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, লামা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ রফিক এর স্ত্রীসহ শশুরের পরিবার পৌরসভার অর্থায়নে  মাস্টার ড্রেন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। এই ব্যাপারে সাবেক কাউন্সিলর মোঃ রফিক জানায়, ‘এটা নিয়ে আমার ব্যাক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই তার পরও আমি কয়েক মাস আগে সেখানে গিয়ে কাজের সুবিধার্থে পরামর্শ দিয়ে এসেছিলাম।’
এ বিষয়ে উপজেলা ও পৌর প্রশাসক বলেন, বিস্তারিত জেনে জনস্বার্থে যা করার সুযোগ রয়েছে; তাই করা হবে। সরকারি অর্থায়নে ব্যক্তি বিশেষের অযৌক্তিক বাধা মোটেও কাম্য নয়। ৩০ মে সকালে লামা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড মধুঝিরিসহ অন্যান্য ওয়ার্ডে প্রবল বর্ষণে রাস্তা ঘাটের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন লামা উপজেলা ও পৌর প্রশাসক নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন, সাথে উপজেলা ছিলেন ত্রান কর্মকর্তা মোঃ মঈন উদ্দিন। টানা বর্ষণে সম্ভাব্য পাহাড় ধ্বসের বিপদ এড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারিদেরকে নিরাপদে থাকার অনুরোধসহ সতর্ক করা হয়।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

টানা বর্ষনে রাস্তাঘাটের ভাঙন

লামা পৌরসভায় সপ্তাহকাল ধরে জলাবদ্ধতায় ৬০ পরিবার

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৯:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
লামা পৌরসভার দুর্যোগ কবলিত বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন উপজেলা ও পৌর প্রশাসক নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন। ২৮ মে রাতে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড মধুঝিরি গ্রামে একটি চলাচল রাস্তা ভেঙে যায়। একই সময় পানির স্রোতে রাস্তার পাশে ঝিরির বড় একটি গাইড ওয়ালও ধ্বসে পড়েছে। এর ফলে শতাধিক পরিবারের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় গ্রামের আরেকটি জনবসতি সপ্তাহকাল ধরে ৩-৫ ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রশাসক সরেজমিনে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় ভুক্তভোগী গ্রামবাসিরা জানান, স্থানীয় ২/৪ জন বাসিন্দাদের লোলুপতায় জলাবদ্ধতা ও রাস্তা ঘাট ভেঙে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিগত দিনে পৌর কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততাকেও দায় করেন বাসিন্দারা। কারন হিসেবে জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ রাস্তা করার সময় দলীয়করণের কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে পারেন নাই। ৩/৪ জন বাসিন্দা দলীয় দাপট দেখিয়ে রাস্তা ও ড্রেনের জায়গা বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে।
জসিম উদ্দিন, জাকের হোসেনসহ কয়েক জন বাসিন্দা জানান, বিগত দিনে এসবের প্রতিবাদ করায়, তাদেরকে মারধর করেছিল দখলকারীরা। এর জন্য পৌর প্রকৌশল বিভাগককে দায়ী করেন স্থানীয়রা। কারণ স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করে প্রকল্প ডিজাইন করেন নাই তারা। এর ফলে সরকারের অর্থ অপচয় একই সাথে জন দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। অপরদিকে গ্রামের আরেকটি জায়গায় পৌরসভার ২৪-২৫ অর্থ বছরে বরাদ্দে নির্মাণাধীন একটি মাস্টার ড্রেনের কাজ বন্ধ করে দেয় মৃত আমির হোসেনের পরিবার।
এর ফলে ২৮ মে রাতে  বৃষ্টির পানির স্রোতে গ্রামের রাস্তা ভেঙে শতাধিক পরিবারে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। সেখানে ঝিরি ও রাস্তার রক্ষায় বড় একটি গাইড ওয়াল ধ্বসে গেছে। ভেঙে যাচ্ছে সমাজের একাংশের একটি কবরস্থান ও ঝিরির পানি ব্যবহারের জন্য নির্মিত বড় একটি সিঁড়ি-ঘাটলা। ২৯ মে লামা উপজেলা ও পৌর প্রশাসক নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন সরেজমিন দেখতে যান।
এ সময় স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, লামা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ রফিক এর স্ত্রীসহ শশুরের পরিবার পৌরসভার অর্থায়নে  মাস্টার ড্রেন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। এই ব্যাপারে সাবেক কাউন্সিলর মোঃ রফিক জানায়, ‘এটা নিয়ে আমার ব্যাক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই তার পরও আমি কয়েক মাস আগে সেখানে গিয়ে কাজের সুবিধার্থে পরামর্শ দিয়ে এসেছিলাম।’
এ বিষয়ে উপজেলা ও পৌর প্রশাসক বলেন, বিস্তারিত জেনে জনস্বার্থে যা করার সুযোগ রয়েছে; তাই করা হবে। সরকারি অর্থায়নে ব্যক্তি বিশেষের অযৌক্তিক বাধা মোটেও কাম্য নয়। ৩০ মে সকালে লামা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড মধুঝিরিসহ অন্যান্য ওয়ার্ডে প্রবল বর্ষণে রাস্তা ঘাটের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন লামা উপজেলা ও পৌর প্রশাসক নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন, সাথে উপজেলা ছিলেন ত্রান কর্মকর্তা মোঃ মঈন উদ্দিন। টানা বর্ষণে সম্ভাব্য পাহাড় ধ্বসের বিপদ এড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারিদেরকে নিরাপদে থাকার অনুরোধসহ সতর্ক করা হয়।