ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করলেই বাড়বে ‘সেবা’র মান

শেখ রিফান আহমেদ : একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত হয় স্থানীয় পর্যায়ের জনসেবার মানে। নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনের অধিকাংশ প্রয়োজন—সড়ক, পানি, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কিংবা স্থানীয় অবকাঠামো—সবকিছুই স্থানীয় সরকারের কার্যক্রমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে স্থানীয় সরকার যত শক্তিশালী হবে, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানো তত সহজ হবে।
বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু বাস্তবে আর্থিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, দক্ষ জনবলের অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় নির্ভরশীলতা স্থানীয় সরকারকে অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন থেকে বিরত রাখে।
স্থানীয় সরকারকে শুধু প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। স্থানীয় সমস্যার সমাধান স্থানীয়ভাবেই নির্ধারণ করা গেলে উন্নয়ন হবে আরও বাস্তবসম্মত ও টেকসই। এজন্য জনপ্রতিনিধিদের দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।
ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর করতে পারে। অনলাইনে নাগরিক সেবা, কর পরিশোধ, অভিযোগ গ্রহণ এবং প্রকল্পের অগ্রগতি প্রকাশ করলে জবাবদিহিতা যেমন বাড়বে, তেমনি দুর্নীতির সুযোগও কমবে।
একটি শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাই পারে জনগণের আস্থা অর্জন করতে এবং উন্নয়নের সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে। তাই বিকেন্দ্রীকরণ, আর্থিক স্বায়ত্তশাসন এবং দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর করে তুলতে হবে। তবেই নাগরিকবান্ধব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবায়ন সহজ হবে।

-লেখক : সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা

Share this news as a Photo Card

11 October 2026

বগুড়ায় আমরুল ইউনিয়ন ওলামা দলের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করলেই বাড়বে ‘সেবা’র মান

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১২:০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

শেখ রিফান আহমেদ : একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত হয় স্থানীয় পর্যায়ের জনসেবার মানে। নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনের অধিকাংশ প্রয়োজন—সড়ক, পানি, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কিংবা স্থানীয় অবকাঠামো—সবকিছুই স্থানীয় সরকারের কার্যক্রমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে স্থানীয় সরকার যত শক্তিশালী হবে, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানো তত সহজ হবে।
বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু বাস্তবে আর্থিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, দক্ষ জনবলের অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় নির্ভরশীলতা স্থানীয় সরকারকে অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন থেকে বিরত রাখে।
স্থানীয় সরকারকে শুধু প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। স্থানীয় সমস্যার সমাধান স্থানীয়ভাবেই নির্ধারণ করা গেলে উন্নয়ন হবে আরও বাস্তবসম্মত ও টেকসই। এজন্য জনপ্রতিনিধিদের দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।
ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর করতে পারে। অনলাইনে নাগরিক সেবা, কর পরিশোধ, অভিযোগ গ্রহণ এবং প্রকল্পের অগ্রগতি প্রকাশ করলে জবাবদিহিতা যেমন বাড়বে, তেমনি দুর্নীতির সুযোগও কমবে।
একটি শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাই পারে জনগণের আস্থা অর্জন করতে এবং উন্নয়নের সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে। তাই বিকেন্দ্রীকরণ, আর্থিক স্বায়ত্তশাসন এবং দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর করে তুলতে হবে। তবেই নাগরিকবান্ধব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবায়ন সহজ হবে।

-লেখক : সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা

Share this news as a Photo Card