ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
তাজা খবর
অসুস্থ হনুমান চিকিৎসা নেওয়ার জন্য নিজেই হাসপাতালে হাজির মেধার স্বাক্ষরে দেশসেরা মনিরামপুরের সুরাইয়া ও অরিত্র ব্যারিস্টার জাইমা বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করেছেন মঠবাড়িয়ায় ৩০ আঙুল নিয়ে নবজাতকের জন্ম, নেই জিহ্বাও ক্রিসেন্ট জুট মিল ৩০ বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিল মাহবুব গ্রুপ ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী

পুরুষ নামক বৃক্ষ নিজেকে উৎসর্গ করে সংসারী বন্ধনের চাহিদায় জীবনের শেষ পরিণতি 

আবু সাঈদ তুষার
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১০:৪৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ মে ২০২৫
  • / ১১০ বার পঠিত
পুরুষ হয়ে এই পৃথিবীতে জন্ম নেওয়ার সবচেয়ে বড় সার্থকতা হচ্ছে, সে একজন পুরুষ এবং স্বার্থত্যাগী মানুষ। কারণ সে পুরুষ হয়ে জন্ম নিয়েছে ঠিকই এবং জীবনের সব সার্থকতায় অর্জন করেছে কিন্তু নিজের চাহিদা কখনোই সে মেটাতে পারেনি সকলের মাঝে। কিন্তু মিটিয়েছে সংসারের সকলের চাহিদা অথচ সে কখনো নিজের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করল না। সবার চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে, সে যে কখন নিজের জীবন থেকেই একদিন হারিয়ে গেল, তা সে নিজে অনুভব করতে পারেনি কখনো। এটা পুরুষের জন্য ব্যর্থতা নয়, এটা হচ্ছে পুরুষের ভাগ্য। শৈশব থেকে বার্ধক্য কাল পর্যন্ত এ ভাগ্য নিয়েই পুরুষ জন্ম নিয়েছে।
বর্তমান সমাজে ঘটে যাওয়া পারিপার্শ্বে অত্যাচারের দৃষ্টিকোণে প্রতিবেদনটি লিখতে বসলাম সমাজের বাস্তবতা দৃষ্টিকোণ থেকে। পুরুষ হলে সেরকমই পুরুষ হতে হবে, যে নিজের চাহিদা  গলা টিপে হত্যা করে পরের চাহিদা পূরণ করবে, এতেই পুরুষের আনন্দ ও জীবন- যুদ্ধে বীরের জয়। তাই পুরুষ জীবনের সার্থকতা সেখানেই, যে সংসার জীবন-যুদ্ধে বীরের মতো দায়িত্ব পালন করতে পারবে, সেই তো হবে পুরুষের মতো পুরুষ।
শৈশব থেকে তারুণ্যের জীবন শেষ করে প্রবীণ জীবন গ্রহণ করে, তখন থেকেই সময় স্রোত পুরুষের জীবনে কাহিনী সব করে দেয় পরিবর্তনের আবৃত্ত। পুরুষ বন্দী হয়ে যায় সংসারের মায়ার আবদ্ধ কোঠায়। হারিয়ে ফেলে নিজের স্বাধীনতা, হারিয়ে ফেলে জীবনের চাহিদার খাতা। জীবনের শৈশব থেকে তারুণ্য পর্যন্ত পুরুষ তার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ উপলব্ধি করতে পারে, যেখানে স্বাধীনতা থাকে, পিতৃ- মাতৃ ভালোবাসা থাকে, ভাই বোন বন্ধুর ভালবাসা থাকে সেই জীবনে। যখনই সংসার জীবনে পুরুষ জড়িয়ে পড়ে, আস্তে আস্তে সময়ের কোঠায় হারিয়ে ফেলে সেই আনন্দ হাসি জীবনের আনন্দ মুহূর্তের বাস্তবতা গুলোকে। সময়ের স্রোতে সবার চাহিদা পুরুষ মানুষ পূরণ করতে নিজেকে সমর্পণ করে দেয়। অথচ নিজের চাহিদা গুলো গলাটিপে হত্যা করে‌ নিরবে। সংসার জীবনে যাদের জন্য হারিয়েছে নিজের চাহিদা, হত্যা করেছে নিজের আনন্দ গুলো, কিন্তু ভালোবাসার এই সংসারের কেউ জানতে চাইলো না, সে কি নিজের জীবনের চাহিদা পূরণ করেছে কখনো। নদীর স্রোত এবং পুরুষের জীবনের স্রোত একই ধারা। এরা পরের চাহিদায় পূরণ করে যায়, নিজের সবকিছু গলাটিপে হত্যা করে।
এর মাঝেও অনেক স্বপ্ন ছিল সে একদিন বড় হয়ে অনেক কিছু করবে, ফ্যামিলির পাশে থাকবে, প্রিয় মানুষের স্বপ্নগুলো পূরণ করবে। স্বপ্নগুলো পূরণ করতে গিয়ে আজ নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছে নিজেকে। তবে একটা কথাই বলি, পুরুষদের কখনো স্বপ্ন থাকে না, তাদের কখনো স্বাধীনতা থাকে না, পুরুষের জীবনেে থাকে শুধুই বাস্তবতা, পুরুষের জীবন হচ্ছে নদীর স্রোতের মতই। সারা জীবন প্রিয় মানুষগুলোর স্বপ্নের পিছে দৌড়ায় স্বপ্ন পূরণ করার জন্য। সারারাত জীবনের সাথে যুদ্ধ করে ঘুমাতে পারি না ইচ্ছে করে। শেষ পরিণতিতে পুরুষ  নিজের অজান্তেই ঘুমিয়ে পড়েছে সারা জীবনের জন্য। সে নিজেও জানে না কখনো আর ফিরবে না এই দুনিয়ায়, কখনো আর ঘুম ভাঙবে না তার। অথচ পুরুষের চাহিদা পূরণ হলো না, হলো শুধু শেষ মুহূর্তের শেষ নিশ্বাস ত্যাগের মৃত্যু। তারপরও বলতে হবে এটাই হচ্ছে পুরুষের জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার। সে সংসারের সবার জন্য সবার চাহিদা পরিপূর্ণভাবে পূরণ করতে পেরেছে, এটাই হচ্ছে পুরুষের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। সর্বশেষে পরিণত হয় পুরুষের জীবনের কাহিনীর ইতি, হারিয়ে যায় এই পৃথিবী থেকে। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করার পর আবার সবার মন থেকে মুছে যায় একদিন এই পুরুষের নাম। তাই বলতে হয়, সংসারের সকলের ভালোবাসার চাহিদা মিটানোর জন্যই পুরুষের জন্ম হয়েছে এবং এই সংসারের মায়ায় একদিন সময়ের কোঠায় শেষ হয়ে গেল পুরুষের জীবনের কর্তব্য পরায়়়ণণ দায়িত্ব, মুহূর্ততগুলো  নিভে গেল জীবনের প্রদীপ, হারিয়ে গেল অন্ধকার জগতে। সংসারের মায়ার বন্ধনে পুরুষের জীবন উৎসর্গ উৎসর্গ হলো কবরের মাটিতে। এর নামে হচ্ছে বাস্তবতা, এর নামই হচ্ছে জীবন।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

পুরুষ নামক বৃক্ষ নিজেকে উৎসর্গ করে সংসারী বন্ধনের চাহিদায় জীবনের শেষ পরিণতি 

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১০:৪৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ মে ২০২৫
পুরুষ হয়ে এই পৃথিবীতে জন্ম নেওয়ার সবচেয়ে বড় সার্থকতা হচ্ছে, সে একজন পুরুষ এবং স্বার্থত্যাগী মানুষ। কারণ সে পুরুষ হয়ে জন্ম নিয়েছে ঠিকই এবং জীবনের সব সার্থকতায় অর্জন করেছে কিন্তু নিজের চাহিদা কখনোই সে মেটাতে পারেনি সকলের মাঝে। কিন্তু মিটিয়েছে সংসারের সকলের চাহিদা অথচ সে কখনো নিজের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করল না। সবার চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে, সে যে কখন নিজের জীবন থেকেই একদিন হারিয়ে গেল, তা সে নিজে অনুভব করতে পারেনি কখনো। এটা পুরুষের জন্য ব্যর্থতা নয়, এটা হচ্ছে পুরুষের ভাগ্য। শৈশব থেকে বার্ধক্য কাল পর্যন্ত এ ভাগ্য নিয়েই পুরুষ জন্ম নিয়েছে।
বর্তমান সমাজে ঘটে যাওয়া পারিপার্শ্বে অত্যাচারের দৃষ্টিকোণে প্রতিবেদনটি লিখতে বসলাম সমাজের বাস্তবতা দৃষ্টিকোণ থেকে। পুরুষ হলে সেরকমই পুরুষ হতে হবে, যে নিজের চাহিদা  গলা টিপে হত্যা করে পরের চাহিদা পূরণ করবে, এতেই পুরুষের আনন্দ ও জীবন- যুদ্ধে বীরের জয়। তাই পুরুষ জীবনের সার্থকতা সেখানেই, যে সংসার জীবন-যুদ্ধে বীরের মতো দায়িত্ব পালন করতে পারবে, সেই তো হবে পুরুষের মতো পুরুষ।
শৈশব থেকে তারুণ্যের জীবন শেষ করে প্রবীণ জীবন গ্রহণ করে, তখন থেকেই সময় স্রোত পুরুষের জীবনে কাহিনী সব করে দেয় পরিবর্তনের আবৃত্ত। পুরুষ বন্দী হয়ে যায় সংসারের মায়ার আবদ্ধ কোঠায়। হারিয়ে ফেলে নিজের স্বাধীনতা, হারিয়ে ফেলে জীবনের চাহিদার খাতা। জীবনের শৈশব থেকে তারুণ্য পর্যন্ত পুরুষ তার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ উপলব্ধি করতে পারে, যেখানে স্বাধীনতা থাকে, পিতৃ- মাতৃ ভালোবাসা থাকে, ভাই বোন বন্ধুর ভালবাসা থাকে সেই জীবনে। যখনই সংসার জীবনে পুরুষ জড়িয়ে পড়ে, আস্তে আস্তে সময়ের কোঠায় হারিয়ে ফেলে সেই আনন্দ হাসি জীবনের আনন্দ মুহূর্তের বাস্তবতা গুলোকে। সময়ের স্রোতে সবার চাহিদা পুরুষ মানুষ পূরণ করতে নিজেকে সমর্পণ করে দেয়। অথচ নিজের চাহিদা গুলো গলাটিপে হত্যা করে‌ নিরবে। সংসার জীবনে যাদের জন্য হারিয়েছে নিজের চাহিদা, হত্যা করেছে নিজের আনন্দ গুলো, কিন্তু ভালোবাসার এই সংসারের কেউ জানতে চাইলো না, সে কি নিজের জীবনের চাহিদা পূরণ করেছে কখনো। নদীর স্রোত এবং পুরুষের জীবনের স্রোত একই ধারা। এরা পরের চাহিদায় পূরণ করে যায়, নিজের সবকিছু গলাটিপে হত্যা করে।
এর মাঝেও অনেক স্বপ্ন ছিল সে একদিন বড় হয়ে অনেক কিছু করবে, ফ্যামিলির পাশে থাকবে, প্রিয় মানুষের স্বপ্নগুলো পূরণ করবে। স্বপ্নগুলো পূরণ করতে গিয়ে আজ নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছে নিজেকে। তবে একটা কথাই বলি, পুরুষদের কখনো স্বপ্ন থাকে না, তাদের কখনো স্বাধীনতা থাকে না, পুরুষের জীবনেে থাকে শুধুই বাস্তবতা, পুরুষের জীবন হচ্ছে নদীর স্রোতের মতই। সারা জীবন প্রিয় মানুষগুলোর স্বপ্নের পিছে দৌড়ায় স্বপ্ন পূরণ করার জন্য। সারারাত জীবনের সাথে যুদ্ধ করে ঘুমাতে পারি না ইচ্ছে করে। শেষ পরিণতিতে পুরুষ  নিজের অজান্তেই ঘুমিয়ে পড়েছে সারা জীবনের জন্য। সে নিজেও জানে না কখনো আর ফিরবে না এই দুনিয়ায়, কখনো আর ঘুম ভাঙবে না তার। অথচ পুরুষের চাহিদা পূরণ হলো না, হলো শুধু শেষ মুহূর্তের শেষ নিশ্বাস ত্যাগের মৃত্যু। তারপরও বলতে হবে এটাই হচ্ছে পুরুষের জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার। সে সংসারের সবার জন্য সবার চাহিদা পরিপূর্ণভাবে পূরণ করতে পেরেছে, এটাই হচ্ছে পুরুষের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। সর্বশেষে পরিণত হয় পুরুষের জীবনের কাহিনীর ইতি, হারিয়ে যায় এই পৃথিবী থেকে। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করার পর আবার সবার মন থেকে মুছে যায় একদিন এই পুরুষের নাম। তাই বলতে হয়, সংসারের সকলের ভালোবাসার চাহিদা মিটানোর জন্যই পুরুষের জন্ম হয়েছে এবং এই সংসারের মায়ায় একদিন সময়ের কোঠায় শেষ হয়ে গেল পুরুষের জীবনের কর্তব্য পরায়়়ণণ দায়িত্ব, মুহূর্ততগুলো  নিভে গেল জীবনের প্রদীপ, হারিয়ে গেল অন্ধকার জগতে। সংসারের মায়ার বন্ধনে পুরুষের জীবন উৎসর্গ উৎসর্গ হলো কবরের মাটিতে। এর নামে হচ্ছে বাস্তবতা, এর নামই হচ্ছে জীবন।