
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গোড়াই আনন্দবাজার এলাকায় এক মাসের ব্যবধানে আবারও তেঁতুল গাছের মগডালে দেখা গেছে সাজেদা বেগম (৪৫) নামের এক নারীকে। সোমবার (৯ জুন) সকালে এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোড়াই আনন্দবাজার এলাকার বাসিন্দা ও আবু সাইদের স্ত্রী সাজেদা বেগমকে সোমবার ভোর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ের তেঁতুল গাছের উঁচু ডালে তাঁকে দেখতে পান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাজেদা বেগমকে কখনো গাছের ডালে বসা, আবার কখনো শোয়া অবস্থায় দেখা যায়। একপর্যায়ে তাঁর ছেলে গাছে ওঠার চেষ্টা করলে তিনি নিজেই ডাল বেয়ে কিছুটা নিচে নেমে পাশের পুকুরে লাফ দেন।
সাজেদা বেগমের স্বামী আবু সাইদ জানান, অনেকে তাঁর স্ত্রীকে মানসিক রোগী মনে করলেও বিভিন্ন সময় রংপুর ও কুড়িগ্রামের চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট রোগ শনাক্ত হয়নি। তিনি বলেন, “কয়েকবার এমন হয়েছে, ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগানো ছিল; কিন্তু পরে তাকে ঘরে পাওয়া যায়নি। আজও বাড়ির গেটে তালা ছিল। তারপরও সে অন্যের বাড়ির পুকুরপাড়ের ওই তেঁতুল গাছে উঠে বসেছিল।”
এলাকাবাসী জানান, এর আগেও একাধিকবার একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন সাজেদা বেগম। গত ৬ মে নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁকে একই তেঁতুল গাছের মগডালে পাওয়া যায়। সে সময় কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করেন। এছাড়া রমজান মাসেও তাঁকে একই গাছে দেখা গিয়েছিল বলে দাবি করেন স্বজনরা।
এ বিষয়ে সাজেদা বেগম বলেন, “কীভাবে এসব ঘটনা ঘটে, আমি নিজেও বুঝতে পারি না। যতবার এমন হয়েছে, ততবারই আমি নামাজ শেষে বা নামাজের প্রস্তুতির সময় ছিলাম। আজও ফজরের নামাজের পর বাড়ির আঙিনায় হাঁটছিলাম। হঠাৎ শরীরে এক ধরনের শীতল স্পর্শ অনুভব করি। এরপর আর কিছু মনে নেই।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিষয়টির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 



















