, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
নাগরিক শিরোনাম :
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ঢাকাস্থ অফিসে কম্পিউটার অপারেটর ও পিওন আবশ্যক। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন : 09649-230220 ও মুঠোফোন : 01915-708187

কাউন্সিলর অফিসে হয়রানি বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন নগরভবন প্রশাসক

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো:   খুলনা সিটি কর্পোরেশনে কাউন্সিলর অফিসগুলোতে জনগণের হয়রানি কবে বন্ধ হবে। একটা জন্ম নিবন্ধন, মৃ’ত্যু সনদ, ফ্যামিলি সার্টিফিকেট বা অন্যান্য ডকুমেন্ট নিয়ে আসতে গেলেই কয়েকদিন সময় নষ্ট করতে হয়। অনেকক্ষেত্রে ৪-৫ বার পর্যন্ত অফিসে ধরনা দিতে হয়। অথচ এগুলো মৌলিক নাগরিক সেবা, যা সহজ ও দ্রুত পাওয়া উচিত।
ওয়ার্ড অফিসগুলোর অধিকাংশ কর্মচারীর ব্যবহারও অত্যন্ত হতাশাজনক। তাদের আচারণ এমন যেন আমরা ভিক্ষা নিতে গিয়েছি তাদের কাছে, অবশ্য দু-একজন ব্যতিক্রম আছেন।
ওয়ার্ড সচিবরা সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিস করলেও অধিকাংশ সময় মিটিংয়ের কারণে তাদের পাওয়া যায় না। যে এক-দুই দিন অফিসে থাকেন, সেদিনও তারা বাইরে থাকে বেশিরভাগ সময়ই। মনে হয় জনগণের সময়ের কোনো মূল্যই নেই তাদের কাছে। ফলে একটি সাধারণ ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতেও মানুষকে চ’র’ম ভো’গা’ন্তি পোহাতে হয়।
অন্যদিকে, ওয়ার্ড কাউন্সিলরের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অনেককেই নিয়মিত অফিসে পাওয়া যায় না। নিজেদের সুবিধামতো এক-দুই ঘণ্টা অফিস করে চলে যান, পরে আর দেখা মেলে না। এ সমস্ত ব্যক্তিদের বা কাউন্সিলরদের কোনো ভাবেই ওয়ার্ড অফিসে দায়িত্ব দেওয়া উচিত না, তারা ব্যস্ত মানুষ, তাদের সই/স্বাক্ষর করা সময় কোথায়!! এমন একটা ভান করে যেন তাদের সিগনেচারের দাম লক্ষাধিক টাকা, আগে থেকেই সিগনেচার করে রাখলে হয়ে যায় সেটা তারা করবেনা!!
শুধু রাস্তা-ঘাট বা ফুটপাত তদারকি করলেই হবে না; কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর উচিত ওয়ার্ড অফিসগুলোর কার্যক্রমও নিয়মিত পরিদর্শন করা। কারণ সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি হ’য়’রা’নি ও ভো’গা’ন্তি’র শি’কা’র হয় এখানেই।
এই সমস্যার কার্যকর সমাধান হতে পারে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন। এমন ব্যবস্থা করা উচিত যাতে নাগরিকরা বাসায় বসেই সকল সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো ডকুমেন্টের প্রয়োজন হলে নাগরিকরা ওয়ার্ড সচিবের অফিসিয়াল নম্বরে ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠিয়ে আবেদন করতে পারবেন। কাজ সম্পন্ন হলে নির্ধারিত ডেলিভারিম্যানের মাধ্যমে সেটি বাসায় পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে।
এতে খুব বেশি খরচও হবে না। আমরা যে পরিমাণ (ট্যাক্স) কেসিসিকে প্রদান করি, তার সামান্য অংশ ব্যয় করলেই এই সেবা চালু করা সম্ভব। ৩১টি ওয়ার্ডের জন্য ৩১ জন, কিংবা প্রতি দুই ওয়ার্ডে একজন করে মোট ১৫-১৬ জন ডেলিভারিম্যান নিয়োগ দিলেও দ্রুত ও হ’য়’রা’নি’মুক্ত সেবা নিশ্চিত করা যাবে। এতে জনগণের মূল্যবান সময়ও বাঁচবে।
আশা করি কেসিসি প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং নাগরিক সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেবে।
জনপ্রিয়

জলবায়ু ন্যায্যতা, কমিউনিটি নেটওয়ার্কিং প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা

কাউন্সিলর অফিসে হয়রানি বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন নগরভবন প্রশাসক

সর্বশেষ : ০৫:৫৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো:   খুলনা সিটি কর্পোরেশনে কাউন্সিলর অফিসগুলোতে জনগণের হয়রানি কবে বন্ধ হবে। একটা জন্ম নিবন্ধন, মৃ’ত্যু সনদ, ফ্যামিলি সার্টিফিকেট বা অন্যান্য ডকুমেন্ট নিয়ে আসতে গেলেই কয়েকদিন সময় নষ্ট করতে হয়। অনেকক্ষেত্রে ৪-৫ বার পর্যন্ত অফিসে ধরনা দিতে হয়। অথচ এগুলো মৌলিক নাগরিক সেবা, যা সহজ ও দ্রুত পাওয়া উচিত।
ওয়ার্ড অফিসগুলোর অধিকাংশ কর্মচারীর ব্যবহারও অত্যন্ত হতাশাজনক। তাদের আচারণ এমন যেন আমরা ভিক্ষা নিতে গিয়েছি তাদের কাছে, অবশ্য দু-একজন ব্যতিক্রম আছেন।
ওয়ার্ড সচিবরা সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিস করলেও অধিকাংশ সময় মিটিংয়ের কারণে তাদের পাওয়া যায় না। যে এক-দুই দিন অফিসে থাকেন, সেদিনও তারা বাইরে থাকে বেশিরভাগ সময়ই। মনে হয় জনগণের সময়ের কোনো মূল্যই নেই তাদের কাছে। ফলে একটি সাধারণ ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতেও মানুষকে চ’র’ম ভো’গা’ন্তি পোহাতে হয়।
অন্যদিকে, ওয়ার্ড কাউন্সিলরের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অনেককেই নিয়মিত অফিসে পাওয়া যায় না। নিজেদের সুবিধামতো এক-দুই ঘণ্টা অফিস করে চলে যান, পরে আর দেখা মেলে না। এ সমস্ত ব্যক্তিদের বা কাউন্সিলরদের কোনো ভাবেই ওয়ার্ড অফিসে দায়িত্ব দেওয়া উচিত না, তারা ব্যস্ত মানুষ, তাদের সই/স্বাক্ষর করা সময় কোথায়!! এমন একটা ভান করে যেন তাদের সিগনেচারের দাম লক্ষাধিক টাকা, আগে থেকেই সিগনেচার করে রাখলে হয়ে যায় সেটা তারা করবেনা!!
শুধু রাস্তা-ঘাট বা ফুটপাত তদারকি করলেই হবে না; কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর উচিত ওয়ার্ড অফিসগুলোর কার্যক্রমও নিয়মিত পরিদর্শন করা। কারণ সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি হ’য়’রা’নি ও ভো’গা’ন্তি’র শি’কা’র হয় এখানেই।
এই সমস্যার কার্যকর সমাধান হতে পারে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন। এমন ব্যবস্থা করা উচিত যাতে নাগরিকরা বাসায় বসেই সকল সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো ডকুমেন্টের প্রয়োজন হলে নাগরিকরা ওয়ার্ড সচিবের অফিসিয়াল নম্বরে ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠিয়ে আবেদন করতে পারবেন। কাজ সম্পন্ন হলে নির্ধারিত ডেলিভারিম্যানের মাধ্যমে সেটি বাসায় পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে।
এতে খুব বেশি খরচও হবে না। আমরা যে পরিমাণ (ট্যাক্স) কেসিসিকে প্রদান করি, তার সামান্য অংশ ব্যয় করলেই এই সেবা চালু করা সম্ভব। ৩১টি ওয়ার্ডের জন্য ৩১ জন, কিংবা প্রতি দুই ওয়ার্ডে একজন করে মোট ১৫-১৬ জন ডেলিভারিম্যান নিয়োগ দিলেও দ্রুত ও হ’য়’রা’নি’মুক্ত সেবা নিশ্চিত করা যাবে। এতে জনগণের মূল্যবান সময়ও বাঁচবে।
আশা করি কেসিসি প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং নাগরিক সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেবে।