
অপু দাস, রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীর শাহ্ মখদুম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করেছে র্যাব-৫। একই অভিযানে দুইজন কথিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদক ও জব্দকৃত যানবাহন আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-৫ সূত্রে জানা গেছে, মাদক নির্মূল ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাহিনীটি নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে র্যাব-৫, রাজশাহীর সদর কোম্পানির একটি অভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৯ জুন ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত প্রায় ১২টা ৫৫ মিনিটে মহানগরীর শাহ্ মখদুম থানাধীন বড় বনগ্রাম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন একটি পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাদের পরিচয় শনাক্ত করে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. সেলিম মিয়া (৪৮) এবং মো. রুবেল মিয়া (৪১)।
র্যাব জানায়, উদ্ধার অভিযানের সময় মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়। প্রয়োজনীয় সাক্ষীর উপস্থিতিতে আইন অনুযায়ী জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে যানবাহনটি র্যাবের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে অবৈধ মাদক সংগ্রহ, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা বিভিন্ন উৎস থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে রাজশাহী মহানগরীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা উদ্ধারকৃত গাঁজার বিষয়ে তথ্য প্রদান করেন এবং মাদক বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে তা নিজেদের হেফাজতে রাখার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে র্যাব। এছাড়া তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ক সম্পর্কে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিস্তার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজশাহী মহানগরীর শাহ্ মখদুম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি মাদক সরবরাহ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে কোনো ধরনের মাদক কারবারকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে র্যাবের চলমান অভিযান আগামীতেও আরও জোরদারভাবে পরিচালিত হবে।

অপু দাস, রাজশাহী 



















