, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
নাগরিক শিরোনাম :
আল্লাহ তুমি আমাদের এই ব্রিজটি করার ব্যবস্থা করে দাও গোয়ালন্দের ছোট ভাকলা ইউনিয়নে বাড়িতে কাফনের কাপড় রেখে মেরে ফেলার হুমকি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পরিবার  পিরোজপুরের উন্নয়নে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানালেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আলমগীর হোসেন হালুয়াঘাটে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ জনের ১ বছর করে  কারাদণ্ড সিরাজগঞ্জে ডা. বাকি মির্জা হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন শিশুর শ্লীলতাহানির অভিযোগ, রেস্টুরেন্ট ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা আমে ভালো দাম পেয়ে সন্তুষ্ট চাষি-ব্যবসায়ীরা ঢুলিভিটায় সড়ক ও জনপথের নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানে হামলা সুগন্ধা নদীতে সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা জোরালো
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ঢাকাস্থ অফিসে কম্পিউটার অপারেটর ও পিওন আবশ্যক। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন : 09649-230220 ও মুঠোফোন : 01915-708187

আল্লাহ তুমি আমাদের এই ব্রিজটি করার ব্যবস্থা করে দাও

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে একটি ব্রীজের অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। পারাপারে খেয়া নৌকাই সেখানে একমাত্র ভরসা।
উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের অন্তর্গত হাবিল মন্ডল পাড়া-দরাপের ডাঙ্গী এলাকায় মরা পদ্মা নদীর উপর এখনো খেয়া নৌকাই চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। তাও সেটা ঘন কচুরিপানায় মাঝে মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।
স্হানীয়রা বলছেন, সেখানে একটি ব্রীজ নির্মান হলে উজানচর ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। গোয়ালন্দ উপজেলা শহর, জামতলার হাট,মমিনখার হাটসহ ফরিদপুর শহরের সাথে অবহেলিত চরবাসীর সরাসরি যোগাযোগ স্হাপিত হবে। বদলে যাবে এলাকার কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা সহ সামগ্রীক পরিস্হিতি।
গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে সেখানে ২৬০ মিটার দৈর্ঘের একটি সেতু নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব উর্ধতন কতৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু অদ্যাবধি তাতে কোন সারা মেলেনি।
সরেজমিনে আলাপকালে উজানচর হাবিব মন্ডল পাড়ার বাসিন্দারা বলেন, তাদের এ এলাকাটি কৃষি নির্ভর এলাকা। প্রচুর ফসল উৎপাদন হয়। কিন্তু পরিবহন সমস্যার কারনে তারা নায্য মূল্য হতে বঞ্চিত হন। মালামাল পরিবহন করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়।
স্থানীয়রা আরো জানায়, তাদের মতো কয়েকশ ছাত্র-ছাত্রী প্রতিদিন খেয়া নৌকা পাড়ি দিয়ে স্কুল -মাদ্রাসায় পড়ালেখা করতে যায়। প্রতিবার খেয়া পাড়ি দিতে ১০ টাকা করে গুনতে হয়। সময়মতো খেয়া ধরতে না পারলে অন্তত ৩০ মিনিট ঘাটে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে অপেক্ষা করতে হয়।
রমজান শেখ নামের এক যুবক জানান, তিনি তার অসুস্থ মা’কে নিয়ে ফরিদপুর শহরে যাচ্ছেন ডাক্তার দেখাতে। অনেকক্ষন বসে থাকার পর নৌকা আসল। এখানে একটা ব্রীজ থাকলে তাদের আর দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।
খেয়া ঘাটের মাঝি রহমান শেখ বলেন, “দ্যাশে এতকাল এ্যাত উন্নতি অইল, কিন্ত আমাগো এহানে একখান ব্রীজ অইলো না। আমি এই এলাকার মানুষগেরে সুখ-দুঃখকে খুব কাছ থেইক্যা দেহি। ব্রিজটা অইলে হগ্গলের দুঃখ-কস্ট দূর অইয়া যাইত।”
 স্হানীয় বাসিন্দা লিয়াকত আলী মন্ডল জানান, এখানে একটা ব্রীজের জন্য তারা বহু বছর ধরে চেষ্টা তদবির করে আসছেন। এলাকার সাবেক এমপি বারবার ওয়াদা দিয়েও এখানে ব্রিজ করতে পারেনি। আমরা এখন নতুন সরকারের কাছে এখানে ব্রিজ করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি সেখানে একটি ব্রিজ নির্মান হওয়াটা খুবই জরুরি। এতদিনেও না হওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করব।
হাজার হাজার মানুষের উপকারের স্বার্থে এই এলাকায় ব্রিজ নির্মাণ হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আরও খবর :
জনপ্রিয়

আল্লাহ তুমি আমাদের এই ব্রিজটি করার ব্যবস্থা করে দাও

আল্লাহ তুমি আমাদের এই ব্রিজটি করার ব্যবস্থা করে দাও

সর্বশেষ : ০৮:২৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে একটি ব্রীজের অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। পারাপারে খেয়া নৌকাই সেখানে একমাত্র ভরসা।
উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের অন্তর্গত হাবিল মন্ডল পাড়া-দরাপের ডাঙ্গী এলাকায় মরা পদ্মা নদীর উপর এখনো খেয়া নৌকাই চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। তাও সেটা ঘন কচুরিপানায় মাঝে মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।
স্হানীয়রা বলছেন, সেখানে একটি ব্রীজ নির্মান হলে উজানচর ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। গোয়ালন্দ উপজেলা শহর, জামতলার হাট,মমিনখার হাটসহ ফরিদপুর শহরের সাথে অবহেলিত চরবাসীর সরাসরি যোগাযোগ স্হাপিত হবে। বদলে যাবে এলাকার কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা সহ সামগ্রীক পরিস্হিতি।
গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে সেখানে ২৬০ মিটার দৈর্ঘের একটি সেতু নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব উর্ধতন কতৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু অদ্যাবধি তাতে কোন সারা মেলেনি।
সরেজমিনে আলাপকালে উজানচর হাবিব মন্ডল পাড়ার বাসিন্দারা বলেন, তাদের এ এলাকাটি কৃষি নির্ভর এলাকা। প্রচুর ফসল উৎপাদন হয়। কিন্তু পরিবহন সমস্যার কারনে তারা নায্য মূল্য হতে বঞ্চিত হন। মালামাল পরিবহন করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়।
স্থানীয়রা আরো জানায়, তাদের মতো কয়েকশ ছাত্র-ছাত্রী প্রতিদিন খেয়া নৌকা পাড়ি দিয়ে স্কুল -মাদ্রাসায় পড়ালেখা করতে যায়। প্রতিবার খেয়া পাড়ি দিতে ১০ টাকা করে গুনতে হয়। সময়মতো খেয়া ধরতে না পারলে অন্তত ৩০ মিনিট ঘাটে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে অপেক্ষা করতে হয়।
রমজান শেখ নামের এক যুবক জানান, তিনি তার অসুস্থ মা’কে নিয়ে ফরিদপুর শহরে যাচ্ছেন ডাক্তার দেখাতে। অনেকক্ষন বসে থাকার পর নৌকা আসল। এখানে একটা ব্রীজ থাকলে তাদের আর দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।
খেয়া ঘাটের মাঝি রহমান শেখ বলেন, “দ্যাশে এতকাল এ্যাত উন্নতি অইল, কিন্ত আমাগো এহানে একখান ব্রীজ অইলো না। আমি এই এলাকার মানুষগেরে সুখ-দুঃখকে খুব কাছ থেইক্যা দেহি। ব্রিজটা অইলে হগ্গলের দুঃখ-কস্ট দূর অইয়া যাইত।”
 স্হানীয় বাসিন্দা লিয়াকত আলী মন্ডল জানান, এখানে একটা ব্রীজের জন্য তারা বহু বছর ধরে চেষ্টা তদবির করে আসছেন। এলাকার সাবেক এমপি বারবার ওয়াদা দিয়েও এখানে ব্রিজ করতে পারেনি। আমরা এখন নতুন সরকারের কাছে এখানে ব্রিজ করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি সেখানে একটি ব্রিজ নির্মান হওয়াটা খুবই জরুরি। এতদিনেও না হওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করব।
হাজার হাজার মানুষের উপকারের স্বার্থে এই এলাকায় ব্রিজ নির্মাণ হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।