, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
নাগরিক শিরোনাম :
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ঢাকাস্থ অফিসে কম্পিউটার অপারেটর ও পিওন আবশ্যক। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন : 09649-230220 ও মুঠোফোন : 01915-708187

বিজয় দিবস ও আমাদের মুক্তি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • সর্বশেষ : ০৮:১২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ৮৩ বার পঠিত

শাহীন শহীদ

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি দেশের জন্ম হয়। দেশ ভাগের আগ পর্যন্ত বৃটিশরা আমাদের শাসন করে। নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়। দীর্ঘ প্রায় দুই শত বছর ব্রিটিশরা আমাদের ভারতবর্ষকে শাসন- ও শোষণ করে। ১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তানের অংশ  পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ   বাংলাদেশ নানাভাবে পাকিস্তানী শাসক দল কর্তৃক  অত্যাচার, অনাচার, জুলুম, নির্যাতনের  স্বীকার হয়। ফলে এসব অন্যায় অবিচার ও  অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য আন্দেলন শুরু হয়। এর ফলে ১৯৭১ এর মুক্তযুদ্ধ এবং নয় মাস যুদ্ধের পর  ১৬ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় লাভ করে। বিজয়ের ৫৪ বছর  আজকের বিজয় দিবসে  আমরা  গণতন্ত্র কতটুকু পেয়েছি বা  চর্চার মর্যাদা দিয়েছি।  গণতন্ত্রের জন্য আমাদের এখনও আন্দোলন করতে হয়। গণতন্ত্রকে সম্মান করতে এখনও শিখতে পারি নাই। প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে পারি নাই। রাজনৈতিক দল গুলো গণতন্ত্রকে নিজেদের মতো ব্যাবহার করেছে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছি। অর্থনেতিকভাবে বিশ্বের দরবারে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব বলেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ । কিন্তু মুক্তি আসে নি। বৈশম্য দিন দিন শুধু বেড়েছে। দুর্ণিতী  নামক দানবটি সমাজকে পঙ্গু করে ফেলেছে।। তাই সমাজের উঁচু স্তর থেকে নিচু স্তর পর্যন্ত দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। দুর্নীতি নামক দানবটি দুর করতে দরকার রাজনৈতিক  সদ ইচ্ছা।  আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কতটিকু সততা আছে তা বিচারের দায় তাদের নিজেদের।  আইনের শাসন ও সুবিচার নিশ্চিত করা স্বাধীন নাগররিকের অন্যতম চাওয়া। কিন্তু আমরা কি পেরেছি। আমরা এখানেও পিছিয়ে। দেশে গুম, খুন, হত্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার মূল কারণ ন্যায় বিচার, দ্রুত বিচার থেকে মানুষ বঞ্চিত। দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারলে সমাজ থেকে গুম, খুন, অবিচার, অত্যাচার অনেক কমে যেত। আজকের ৫৪ তম বিজয় দিবসে আমরা  ন্যায়বিচার, নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার কার্যকর দেখতে চাই।

পাঁচ আগস্ট, ২০২৪ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয়ের  পুনরুদ্ধারের দিন। বিজয় ছিনিয়ে এনেছে নতুন প্রজন্মের নতুন – ছাত্র-জনতা ও যোদ্ধা। বার বার রক্তদিয়ে লুটেরা, তৈলবাজ, ধর্ম ব্যবসায়ী,  স্বৈরশাসকদের ক্ষমতা থেকে হটানো হয়েছে। তারপরও ভিন্ন ভিন্ন রুপ ধারন করে চেপে বসেছে স্বৈরাচার।  এক স্বৈরাচার পালানোর পর জন্ম নেয় আর একটি স্বৈরচার। তাই স্বৈরাচার নিরোধের একটি স্হায়ী ব্যবস্হা করতে হবে। স্বৈরাচারের বীজকে সমুলে ধংস করতে হবে। বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকার সকল ত্রুটি বিচ্যুতি চিহ্নিত করে বৈশম্য দুর করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষে আমাদের সবাইকে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে।   বাংলাদেশের ৫৪তম বিজয় দিবস হোক আমাদের স্বপ্ন পূরণের দিবস।

আরও খবর :
জনপ্রিয়

জলবায়ু ন্যায্যতা, কমিউনিটি নেটওয়ার্কিং প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা

বিজয় দিবস ও আমাদের মুক্তি

সর্বশেষ : ০৮:১২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪

শাহীন শহীদ

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি দেশের জন্ম হয়। দেশ ভাগের আগ পর্যন্ত বৃটিশরা আমাদের শাসন করে। নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়। দীর্ঘ প্রায় দুই শত বছর ব্রিটিশরা আমাদের ভারতবর্ষকে শাসন- ও শোষণ করে। ১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তানের অংশ  পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ   বাংলাদেশ নানাভাবে পাকিস্তানী শাসক দল কর্তৃক  অত্যাচার, অনাচার, জুলুম, নির্যাতনের  স্বীকার হয়। ফলে এসব অন্যায় অবিচার ও  অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য আন্দেলন শুরু হয়। এর ফলে ১৯৭১ এর মুক্তযুদ্ধ এবং নয় মাস যুদ্ধের পর  ১৬ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় লাভ করে। বিজয়ের ৫৪ বছর  আজকের বিজয় দিবসে  আমরা  গণতন্ত্র কতটুকু পেয়েছি বা  চর্চার মর্যাদা দিয়েছি।  গণতন্ত্রের জন্য আমাদের এখনও আন্দোলন করতে হয়। গণতন্ত্রকে সম্মান করতে এখনও শিখতে পারি নাই। প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে পারি নাই। রাজনৈতিক দল গুলো গণতন্ত্রকে নিজেদের মতো ব্যাবহার করেছে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছি। অর্থনেতিকভাবে বিশ্বের দরবারে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব বলেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ । কিন্তু মুক্তি আসে নি। বৈশম্য দিন দিন শুধু বেড়েছে। দুর্ণিতী  নামক দানবটি সমাজকে পঙ্গু করে ফেলেছে।। তাই সমাজের উঁচু স্তর থেকে নিচু স্তর পর্যন্ত দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। দুর্নীতি নামক দানবটি দুর করতে দরকার রাজনৈতিক  সদ ইচ্ছা।  আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কতটিকু সততা আছে তা বিচারের দায় তাদের নিজেদের।  আইনের শাসন ও সুবিচার নিশ্চিত করা স্বাধীন নাগররিকের অন্যতম চাওয়া। কিন্তু আমরা কি পেরেছি। আমরা এখানেও পিছিয়ে। দেশে গুম, খুন, হত্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার মূল কারণ ন্যায় বিচার, দ্রুত বিচার থেকে মানুষ বঞ্চিত। দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারলে সমাজ থেকে গুম, খুন, অবিচার, অত্যাচার অনেক কমে যেত। আজকের ৫৪ তম বিজয় দিবসে আমরা  ন্যায়বিচার, নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার কার্যকর দেখতে চাই।

পাঁচ আগস্ট, ২০২৪ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয়ের  পুনরুদ্ধারের দিন। বিজয় ছিনিয়ে এনেছে নতুন প্রজন্মের নতুন – ছাত্র-জনতা ও যোদ্ধা। বার বার রক্তদিয়ে লুটেরা, তৈলবাজ, ধর্ম ব্যবসায়ী,  স্বৈরশাসকদের ক্ষমতা থেকে হটানো হয়েছে। তারপরও ভিন্ন ভিন্ন রুপ ধারন করে চেপে বসেছে স্বৈরাচার।  এক স্বৈরাচার পালানোর পর জন্ম নেয় আর একটি স্বৈরচার। তাই স্বৈরাচার নিরোধের একটি স্হায়ী ব্যবস্হা করতে হবে। স্বৈরাচারের বীজকে সমুলে ধংস করতে হবে। বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকার সকল ত্রুটি বিচ্যুতি চিহ্নিত করে বৈশম্য দুর করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষে আমাদের সবাইকে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে।   বাংলাদেশের ৫৪তম বিজয় দিবস হোক আমাদের স্বপ্ন পূরণের দিবস।