
বোদায় জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগে আহত ২০ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলই শালশিরি ইউনিয়নের আরাজি শিকারপুর গ্রামে জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনকে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ছয়জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এছাড়া, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের ২২ জনকে আটক করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলেজ শিক্ষক তরিকুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বানিয়াপাড়া এলাকার জিয়াউর রহমানের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ১২-১৪ বিঘা জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিষয়ে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। সম্প্রতি জিয়াউর রহমানের পক্ষ ওই জমি দখলে নিয়ে সেখানে ভুট্টা রোপণ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তরিকুল ইসলাম ও তার সমর্থকরা ভাড়া করা প্রায় শতাধিক লোক নিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে ওই জমিতে হালচাষ করতে গেলে জিয়াউর রহমান ও তার স্বজনরা বাধা দেন। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। সংঘর্ষে জিয়াউর রহমান ও তার স্বজন ইসমাইল গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে, উত্তেজিত জনতা তরিকুল ইসলাম ও তার চাচা নজরুল ইসলামের সমর্থকদের ধাওয়া দিয়ে তাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং ভাঙচুর চালায়। সংঘর্ষ চলাকালে তরিকুল ইসলামের বাড়ির বেশ কয়েকটি ঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। উঠোনে রাখা দুটি ট্রাক্টর ও তিনটি মোটরসাইকেলও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সংঘর্ষের বিষয়ে কলেজ শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে, অথচ আমাদেরই উল্টো গ্রেফতার করা হচ্ছে।” অন্যদিকে, জিয়াউর রহমানের ভাতিজি রমিলা বেগম বলেন, “সকাল থেকেই তরিকুলের বাড়িতে মোটরসাইকেলে বহিরাগত ভাড়াটে লোকজন আসে। তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে জমিতে গিয়ে ট্রাক্টর চালানোর চেষ্টা করলে আমাদের লোকজন বাধা দেয়। তখন তারা নির্মমভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। জিয়াউর ও ইসমাইল গুরুতর আহত হয়ে রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, তরিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগের নেতা এবং তার ছোট ভাই আতাউর ছাত্রলীগের নেতা হওয়ায় তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে।
বোদা থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখন পর্যন্ত ২২ জনকে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উত্তম কুমার আটোয়ারী (পঞ্চগড় ) 




















