
প্রবল ঝূঁকিতে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া এলাকায় বালু নদের উপর নির্মিত সেতু। যে কোন সময় ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ হলেও প্রতিনিয়ন ভারী যানবাহন চলাচল করছে। এ সেতুটি ধ্বসে পড়লে ভোগান্তি চরম আকারে দেখা দিবে। সেতুটি নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোন মাথাবথা নেই। এতে সেতু ধসে পড়ে যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। তাতে প্রাণহানির আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীরা বলেন, সেতুর তিনটি পিলার, ভিম ও রেলিংয়ের বিভিন্ন স্থানের পলেরা ভেঙে পড়েছে। সেতুর নিচে ইট দিয়ে কোনমতে ঠেক দিয়ে রাখা আছে।
এ সেতুদিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া এ সেতুই রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। এদিকে, বালু নদ দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার বালুবোঝাই বাল্কহেড চলাচল করে। এসব বাল্কহেডের ধাক্কায় পিলারলো ভেঙে গেছে বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। গাড়ি পারাপারের সময় সেতু কেঁপে উঠে। সেতুটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর এ অবস্থা হলেও তা মেরামত কিংবা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সেতুর পাশে নতুন করে আরো একটি সেতু নির্মাণ করার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তা আর হয়ে উঠেনি।
উপজেলা সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে প্রায় এক কোটি দশ লাখ টাকা ব্যয়ে বালু নদের উপড় চনপাড়া-ডেমরা সেতুনির্মাণ করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ১১০ ফুট ও ১২ ফুট। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বালু নদের উপড় চনপাড়া-ডেমরা সেতুর তিনটি পিলারের পলেস্তরা ভেঙে পড়েছে। বাকি পিলার গুলোর অবস্থাও প্রায় একই রকম। একটি পিলারের সবগুলো রড বের হয়ে বাঁকা হয়ে রয়েছে। সেতুর ’দিকের রেলিংয়ের পলেস্তরাও ভেঙে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, বালু নদ দিয়ে সারা বছরই বালুবোঝাই বাল্কহেড চলাচল করে। তবে, বর্ষাকালে কয়েক হাজার বালুবোঝাই বাল্কহেড চলাচল করে। এসব বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতুর পিলারগুলোর পলেস্তরা ভেঙে পড়ছে। ডেমরা-কালীগঞ্জ সড়কের রূপগঞ্জ থানার সামনে থেকে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় ৭শ’ সিএনজি চলাচল করে। এছাড়া বেবী-টেম্পো, প্রাইভেটকার, পিকআপসহ শত শত যানবাহন চলাচল করে।
ডেমরার মীরপাড়া এলাকার গৃহবধূ রুমা আক্তার বলেন, আমাদের সপ্তাহে একদিন সেতুটি পার হতে হয়। পার হওয়ার সময় বুরেক ফুঁ দিয়ে পার হই। যে কোন সময় সেতু ধ্বসে পড়তে পারে। নগরপাড়া এলাকার বিল্লাল হোসেন মিশরী বলেন, আমার স্টাফ কোয়াটার যাওন লাগে। সেতুতে উঠলেই ডর করে।
জানা গেছে, ২০০০ সালের দিকে সেতুতে ফাটল দেখা দেয়। তখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ২০১২ সালে সেতুর পিলার, র্যালিং ও বিভিন্ন অংশের পলেস্তরা খসে পড়তে শুরু করে। এলজিইডি অফিস সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর দুর্ঘটনা এড়াতে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সাইনবোর্ড দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে। পাশাপাশি সেতুর দুপাশে রড দিয়ে টানা দিয়ে দেয়, যেনো ভারী যানবাহন ঢুকতে না পারে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কিছুদিন পরই সাইনবোড সরিয়ে ফেলে। রডও কেটে ফেলে দেয়।
রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আকতার হোসেন বলেন, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল নিষেধ করা হয়েছে। রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, বালু নদের চনপাড়া-ডেমরা সেতু সম্পর্কে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে অবহিত করা হচ্ছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতুর নির্মাণকাজ তাড়াতাড়ি শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মোঃ শরিফ মিয়া, রূপগঞ্জ 



















