ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
তাজা খবর
অসুস্থ হনুমান চিকিৎসা নেওয়ার জন্য নিজেই হাসপাতালে হাজির মেধার স্বাক্ষরে দেশসেরা মনিরামপুরের সুরাইয়া ও অরিত্র ব্যারিস্টার জাইমা বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করেছেন মঠবাড়িয়ায় ৩০ আঙুল নিয়ে নবজাতকের জন্ম, নেই জিহ্বাও ক্রিসেন্ট জুট মিল ৩০ বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিল মাহবুব গ্রুপ ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী

“শ্রমিক দিবস নয় গণহত্যার উৎসব”

মিনহাজ মোল্লা
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৪৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫
  • / ২৫৬ বার পঠিত

“শ্রমিক দিবস নয়, গণহত্যার উৎসব”

(মিনহাজ মোল্লা)

তারা বলে,
আজ শ্রমিক দিবস।
আমরা বলি—
আজ রক্তের দিন, পায়ের নিচে পিষ্ট মানবতার কান্না।
আজ সেই দিন, যেদিন পৃথিবীর কারখানাগুলোতে নিঃশব্দে
শত সহস্র প্রাণ
‘সেফটি হেলমেট’ ছাড়া,
‘ন্যায্য মজুরি’ ছাড়া,
‘ইতিহাস’ ছাড়া
জীবন্ত কবর হয়ে গিয়েছিলো।

তারা বলে,
“দিবসটি আমাদের শ্রদ্ধার…”
আমরা দেখি,
শোকের দিনকে রাজনীতির ব্যানারে মুড়িয়ে
তারা বানায় উৎসব।
অফিস ছুটি, ফুলের তোড়া,
মাইকে গান বাজে: “শ্রমই শান্তি”
আর সেই শান্তির পেছনে
একটা লাশ,
দুইটা লাশ,
হাজার লাশ—
নীরব গনগনে চিতার মতো পুড়ছে।

তারা মুখোশ পরে আসে,
বলে—“শ্রমিকদের পাশে আছি”
আমরা দেখি,
তাদের হাতেই সই হয় বেতন কাটা ফাইল,
তাদের কলমেই লেখা হয়
“অতিরিক্ত সময় কাজ করলেও কোনো পারিশ্রমিক নেই”।

তারা বলে,
“আমরা শ্রমিকদের ভালোবাসি”
আমরা দেখি,
তাদের ভালোবাসা মানে
প্রথমে ভোট,
তারপর ব্যালট,
তারপর গুলি।

আজ ১লা মে নয়,
আজ শ্রমের নামে গড়ে ওঠা
আধুনিক কবরের দিন।
আজ ধ্বংসস্তূপের স্তব্ধতা আর
রাজনীতির নির্লজ্জ হাসির মধ্যে
আমরা খুঁজি সত্যের কবরে চাপা পড়ে থাকা
শেষ আর্তনাদ।

তারা আজও বেঁচে নেই,
যারা চিৎকার করেছিল,
“৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম, ৮ ঘণ্টা জীবন!”
তাদের আজ ২৪ ঘণ্টাই মৃত্যু।


এটাই আমাদের ঘোষণা:
আমরা আর দিবস মানি না,
আমরা মানি গণহত্যা।
আমরা আর ফুল ছুঁড়ে শ্রদ্ধা জানাই না,
আমরা হাতে তুলি সেই ফুল-ছেঁড়া কারখানার ধুলো,
যেখান থেকে পৃথিবীর রক্তঝরা ইতিহাস শুরু হয়েছিলো।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

“শ্রমিক দিবস নয় গণহত্যার উৎসব”

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৪৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫

“শ্রমিক দিবস নয়, গণহত্যার উৎসব”

(মিনহাজ মোল্লা)

তারা বলে,
আজ শ্রমিক দিবস।
আমরা বলি—
আজ রক্তের দিন, পায়ের নিচে পিষ্ট মানবতার কান্না।
আজ সেই দিন, যেদিন পৃথিবীর কারখানাগুলোতে নিঃশব্দে
শত সহস্র প্রাণ
‘সেফটি হেলমেট’ ছাড়া,
‘ন্যায্য মজুরি’ ছাড়া,
‘ইতিহাস’ ছাড়া
জীবন্ত কবর হয়ে গিয়েছিলো।

তারা বলে,
“দিবসটি আমাদের শ্রদ্ধার…”
আমরা দেখি,
শোকের দিনকে রাজনীতির ব্যানারে মুড়িয়ে
তারা বানায় উৎসব।
অফিস ছুটি, ফুলের তোড়া,
মাইকে গান বাজে: “শ্রমই শান্তি”
আর সেই শান্তির পেছনে
একটা লাশ,
দুইটা লাশ,
হাজার লাশ—
নীরব গনগনে চিতার মতো পুড়ছে।

তারা মুখোশ পরে আসে,
বলে—“শ্রমিকদের পাশে আছি”
আমরা দেখি,
তাদের হাতেই সই হয় বেতন কাটা ফাইল,
তাদের কলমেই লেখা হয়
“অতিরিক্ত সময় কাজ করলেও কোনো পারিশ্রমিক নেই”।

তারা বলে,
“আমরা শ্রমিকদের ভালোবাসি”
আমরা দেখি,
তাদের ভালোবাসা মানে
প্রথমে ভোট,
তারপর ব্যালট,
তারপর গুলি।

আজ ১লা মে নয়,
আজ শ্রমের নামে গড়ে ওঠা
আধুনিক কবরের দিন।
আজ ধ্বংসস্তূপের স্তব্ধতা আর
রাজনীতির নির্লজ্জ হাসির মধ্যে
আমরা খুঁজি সত্যের কবরে চাপা পড়ে থাকা
শেষ আর্তনাদ।

তারা আজও বেঁচে নেই,
যারা চিৎকার করেছিল,
“৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম, ৮ ঘণ্টা জীবন!”
তাদের আজ ২৪ ঘণ্টাই মৃত্যু।


এটাই আমাদের ঘোষণা:
আমরা আর দিবস মানি না,
আমরা মানি গণহত্যা।
আমরা আর ফুল ছুঁড়ে শ্রদ্ধা জানাই না,
আমরা হাতে তুলি সেই ফুল-ছেঁড়া কারখানার ধুলো,
যেখান থেকে পৃথিবীর রক্তঝরা ইতিহাস শুরু হয়েছিলো।