, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
নাগরিক শিরোনাম :
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ঢাকাস্থ অফিসে কম্পিউটার অপারেটর ও পিওন আবশ্যক। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন : 09649-230220 ও মুঠোফোন : 01915-708187

ভর্তির জন্য ঘুষ ও দুর্নীতি: শিক্ষার মেরুদণ্ডে আঘাত

 


‎গত কয়েক বছর ধরে দেশের নামকরা স্কুল ও কলেজগুলোতে ভর্তির সময় ঘুষ ও দুর্নীতির ঘটনা বহুবার প্রতিবেদন হয়েছে।
২০২৪ সালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের অভিভাবকদের প্রায় ৩৫% স্বীকার করেছেন যে, সন্তানকে
জনপ্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য তারা অনৈতিক প্রভাব বা আর্থিক লেনদেনের সম্মুখীন হয়েছেন। এমন
পরিস্থিতি দেশের মেধা নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং শিক্ষার মূল আদর্শকে বিপর্যস্ত করছে। ‎‎বিশেষ
করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মতো বড় শহরের নামকরা স্কুল-কলেজগুলোতে এই দুর্নীতির প্রবণতা
বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেখানে প্রকৃত মেধাবীরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং শুধু অর্থশক্তিধর ও প্রভাবশালী
পরিবারের সন্তানরাই সুবিধা পাচ্ছেন। এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন
করছে। ‎২০২৪ সালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের মোট ভর্তি পরীক্ষার প্রায় ২৫% ক্ষেত্রে বিভিন্ন
রকম অনিয়ম ও দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয়েছে। গত বছর ৪৫টির বেশি গুরুতর দুর্নীতি ও অনিয়মের মামলা দায়ের হলেও,
অধিকাংশ মামলার বিচার কার্যক্রম এখনও সম্পন্ন হয়নি। এর ফলে দুর্নীতিবাজ চক্র আরও বেপরোয়া ও সাহসী হয়ে
উঠেছে। ‎গত বছর যা হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বছর ভর্তি মৌসুমে যেন এসব অনিয়মের
পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারকে কঠোর মনিটরিং ও তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও মেধাভিত্তিক হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। ‎এছাড়া, ভর্তি পরীক্ষায়
ঘুষ বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেই তা দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
নয়, দুর্নীতি প্রতিরোধে স্বচ্ছতার জন্য অনলাইন মনিটরিং সিস্টেম চালু এবং হটলাইন গঠন করাও জরুরি। ‎অভিভাবক,
শিক্ষক, প্রশাসন ও সমাজ—সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান অসম্ভব। অভিভাবকদেরও
সচেতন হতে হবে যেন তারা এই অবৈধ প্রভাবের অংশ না হন এবং প্রকৃত মেধাবীদের সুযোগ নিশ্চিত করতে
ভূমিকা পালন করেন। ‎শিক্ষার মেরুদণ্ড যেন ভেঙে না পড়ে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার। গত বছর যা ঘটেছে, সে ভুল
আর পুনরাবৃত্তি হতে দেবার সুযোগ নেই। শিক্ষাব্যবস্থার নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা ছাড়া দেশের ভবিষ্যৎ
নির্মাণ অসম্ভব। ‎শিক্ষা শুধু একটি বিষয় নয়; এটি জাতির উন্নয়নের মূল ভিত্তি। তাই ভর্তির জন্য ঘুষ ও দুর্নীতি
রোধে সুনির্দিষ্ট, কঠোর ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া অত্যাবশ্যক।

আরও খবর :
জনপ্রিয়

জলবায়ু ন্যায্যতা, কমিউনিটি নেটওয়ার্কিং প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা

ভর্তির জন্য ঘুষ ও দুর্নীতি: শিক্ষার মেরুদণ্ডে আঘাত

সর্বশেষ : ১১:৪২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

 


‎গত কয়েক বছর ধরে দেশের নামকরা স্কুল ও কলেজগুলোতে ভর্তির সময় ঘুষ ও দুর্নীতির ঘটনা বহুবার প্রতিবেদন হয়েছে।
২০২৪ সালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের অভিভাবকদের প্রায় ৩৫% স্বীকার করেছেন যে, সন্তানকে
জনপ্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য তারা অনৈতিক প্রভাব বা আর্থিক লেনদেনের সম্মুখীন হয়েছেন। এমন
পরিস্থিতি দেশের মেধা নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং শিক্ষার মূল আদর্শকে বিপর্যস্ত করছে। ‎‎বিশেষ
করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মতো বড় শহরের নামকরা স্কুল-কলেজগুলোতে এই দুর্নীতির প্রবণতা
বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেখানে প্রকৃত মেধাবীরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং শুধু অর্থশক্তিধর ও প্রভাবশালী
পরিবারের সন্তানরাই সুবিধা পাচ্ছেন। এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন
করছে। ‎২০২৪ সালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের মোট ভর্তি পরীক্ষার প্রায় ২৫% ক্ষেত্রে বিভিন্ন
রকম অনিয়ম ও দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয়েছে। গত বছর ৪৫টির বেশি গুরুতর দুর্নীতি ও অনিয়মের মামলা দায়ের হলেও,
অধিকাংশ মামলার বিচার কার্যক্রম এখনও সম্পন্ন হয়নি। এর ফলে দুর্নীতিবাজ চক্র আরও বেপরোয়া ও সাহসী হয়ে
উঠেছে। ‎গত বছর যা হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বছর ভর্তি মৌসুমে যেন এসব অনিয়মের
পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারকে কঠোর মনিটরিং ও তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও মেধাভিত্তিক হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। ‎এছাড়া, ভর্তি পরীক্ষায়
ঘুষ বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেই তা দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
নয়, দুর্নীতি প্রতিরোধে স্বচ্ছতার জন্য অনলাইন মনিটরিং সিস্টেম চালু এবং হটলাইন গঠন করাও জরুরি। ‎অভিভাবক,
শিক্ষক, প্রশাসন ও সমাজ—সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান অসম্ভব। অভিভাবকদেরও
সচেতন হতে হবে যেন তারা এই অবৈধ প্রভাবের অংশ না হন এবং প্রকৃত মেধাবীদের সুযোগ নিশ্চিত করতে
ভূমিকা পালন করেন। ‎শিক্ষার মেরুদণ্ড যেন ভেঙে না পড়ে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার। গত বছর যা ঘটেছে, সে ভুল
আর পুনরাবৃত্তি হতে দেবার সুযোগ নেই। শিক্ষাব্যবস্থার নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা ছাড়া দেশের ভবিষ্যৎ
নির্মাণ অসম্ভব। ‎শিক্ষা শুধু একটি বিষয় নয়; এটি জাতির উন্নয়নের মূল ভিত্তি। তাই ভর্তির জন্য ঘুষ ও দুর্নীতি
রোধে সুনির্দিষ্ট, কঠোর ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া অত্যাবশ্যক।