

মায়ানমারে যাচ্ছে চাল,ডাল, সিমেন্ট, তৈলসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য, সার ও নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল, বিনিময়ে আসছে মরণনেশা ইয়াবাসহ ভয়ঙ্কর মাদক। ইদানীং কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার মায়ানমার সীমান্তবর্তী প্রতিটি পয়েন্ট থেকে প্রতিনিয়ত নিত্যপণ্য মালামাল বাংলাদেশ হতে প্রকাশ্য পাচার হচ্ছে চাল, ডাল,তৈল,ঔষুধ, সিমেন্ট,সার সহ মুল্যবান নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল। তার বিনিময়ে মায়ানমার হতে নিয়ে আসে ভয়ঙ্কর মরন নেশা ইয়াবা ও আইচ নামক মাদক।যার কারণে অগামী প্রজন্মের সম্ভাবনাময় স্কুল কলেজের ছাত্র ও উঠতি বয়সের তরুণ মেধাবী যুবক নেশা গ্রস্থ হয়ে ¬যাচ্ছে। মায়ানমার হতে অগত মরণনেশা সেবনের কারণে সংসারে এমন অশান্তি চলতেছে মাদক সেবন করে স্ত্রী, মা-বাবা, ভাই-বোন, আতী¡য় স্ব-জন সহ কেউ রেহাই পাচ্ছেনা এবং মাদক সেবীরা মাদকের টাকা যোগাড় করতে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরনসহ নানা ধরণের অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। তা ছাড়াও সব চাইতে ভয়ঙ্কর হচ্ছে যারা ইয়াবা কারবারী তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডে কেউ বাধা প্রদান করলে অথবা কেহ তাদের অবৈধ ইয়াবা পাচারের কথা বল্লে কিছু অর্থ লোভী দায়িত্ব প্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে দিয়ে প্রতিবাদী সরল সোজা মানুষকে ইয়াবার অবৈধ টাকার জোরে ইয়াবা দিয়ে চালান করে দেয়।
যার কারণে কেউ ইয়াবা কারবারীর বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস করেনা। বর্তমানে যারা আরকান রাজ্য স্বাধীন করার জন্য বাংলাদেশ সীমান্তে লাগোয়া মায়ানমার সীমান্তে যে সমস্ত ক্যাম্প ছিল সব ক্যাম্প আরকান আর্মির দখলে নিয়েছে। আরকান আর্মিদের যেমন দেশ প্রেম আছে তার ১০০ ভাগের এক ভাগ দেশপ্রেম আমাদের বাংলাদেশীদের নাই। যদি তাদের দেশ প্রেমের মত দেশ প্রেম আমাদের থাকত তাহলে বাংলাদেশ ধনি দেশের মত উন্নত দেশ হতে বেশী দিন সময়ের প্রয়োজন হতনা। শুধু আরকান আর্মি নয় বাংলাদেশে আশ্রিত যে সমস্ত রোহিঙ্গা আশ্রয় গ্রহন করেছে তাদের মধ্যে যে দেশপ্রেম তা শুনলে হতবাক না হয়ে পারবেন না।যেমন বাংলাদেশ হতে কোন সময় কোনদিন নগদ টাকা দিয়ে মায়ানমারের কোন পণ্য আনতে পারবেন না। মায়ানমার বলেন, আরকান বলেন, আরকান আর্মি বলেন, আর রোহিঙ্গা বলেন, তারা যদি মায়ানমার হতে মরন নেশা ইয়াবা, ক্রিষ্টাল অইসসহ আচার পাঠায় তাহলে বাংলাদেশ থেকে আগে চাউল, সার, ঔষুধ, সিমেন্ট, তরিতরকারীসহ তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা মত পণ্য পাঠাইলে আরকান আর্মি সেখান হতে পাঠাবে ৭০ ভাগ টাকার ইয়াবাসহ মাদক, ২০ ভাগ টাকার তেতুল, বরই, জলপাইসহ বিভিন্ন আচার, ৭ ভাগ চাইনিজ খেলনা বার্মীজ সেন্ডেল, তালা ও ৩ ভাগ দিবে বার্মার থ্রী রাইফেল্স নামক কাপড়। এর বিনিময়ে বাংলাদেশ হতে দিতে হয় মুল্যবান খাদ্য-দ্রব্য সার ও তাদের চাহিদা মত নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল। যেহেতু আমার বাড়ী সীমান্তের দুই আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে সেহেতু অনেক কিছু দেখি ও অনেক কছিু শুনি। তবে বলতে না পারার কারণ হচ্ছে যারা ইয়াবা কারবারী তাদের ক্ষমতার কাছে কেউ টিকতে পারেনা। তাদের অবৈধ টাকার কাছে সকলের হার মানতে হয়। ইয়াবা কারবারীর অবৈধ টাকায় দায়িত্ব প্রাপ্তরা বিক্রি হওয়ার কারণে যারা প্রতিবাদ করে তাদেরকে দায়ীত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ ইয়াবা কারবারীদের থেকে ইয়াবা নিয়ে রাত্রে বাড়ী অথবা যে কোন স্থান হতে আটক করে ইয়াবা মামলার অসামী করে চালান কওে দেয় সে ভয়ে কেউ ইয়াবা কারবারীর বিরুদ্ধে কথা বলতে চায়না।বর্তমানে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের অরকান রাজ্যের সীমান্ত একেবারে উমুক্ত, প্রকাশ্যে বাংলাদেশ হতে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য-দ্রব্যসহ মুল্যবান ঔষুধ, গ্যাস সিলিন্ডার মায়ানমারে যাচ্ছে, সেই আরকান রাজ্য হতে সীমান্ত পার হয়ে কোটি কোটি ইয়াবা বাংলাদেশে ঢোকে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প হয়ে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে আগামী প্রজন্ম মাদকাশক্ত হয়ে যাচ্ছে। এই মরণনেশা ইয়াবার আগ্রাসন থেকে জাতিকে বাচাতে হলে চিহ্নিত ইয়াবা কারবারীদেরকে কঠোর হস্থে দমন করতে হবে। যদি মরণনেশা ইয়াবা কারবারীদের কঠোর হস্থে দমন করা না হয় আগামী প্রজন্মে রাষ্ট্র পরিচালনা করার মত কোন মেধাবী মানব সৃষ্টি হবে বলে মনে হয়না। তাই সীমান্তে দায়িত্ব প্রাপ্ত সকল কতৃপক্ষের প্রতি সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণ সীমান্ত রক্ষীদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ দিয়ে থাকলেও আসলে সীমান্ত রক্ষী একার দ্বারা সীমান্তের চোরা চালান বন্ধ করা সম্ভব নয়। যার অন্যতম কারণের মধ্যে সীমান্তের রাস্তা সমুহ চলাচল করার মত কোন সুযোগ নেই। মোবাইল ফোনের কারণে বিজিবির গতিবিধি চোরাচালানীরা জেনে যায়। তাছাড়া সীমান্ত রক্ষীদের জনবল পর্যাপ্ত নয়।
-লেখক: মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটি ও চেয়ারম্যান পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ, উখিয়া,কক্সবাজার।

এম.গফুর উদ্দিন চৌধুরী 



















