ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তাজা খবর
ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা হরমুজ প্রণালি ও ইরানে শাসক পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কো রুবিও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার

নির্বাচনে ভিন্ন কৌশলী প্রচারণায় সিপিবি প্রার্থী জহর লাল দত্ত

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:০১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৬৪ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মৌলভীবাজার-৩(সদর ও রাজনগর) আসনে চলছে তুমুল উত্তেজনা। একদিকে বিএনপি, জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিশাল শোডাউন,অন্যদিকে মাইকিং আর স্লোগানে মুখর রাজপথ। কিন্তু এই কোলাহলের ঠিক বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে এক নিঃশব্দ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) বর্ষীয়ান নেতা জহর লাল দত্ত।বড় দলগুলোর প্রার্থীদের পোস্টার-ব্যানারে আকাশ ঢেকে গেলেও জহর লাল দত্তের নামটা নির্বাচনী মাঠে খুব একটা উচ্চস্বরে ভেসে আসছে না। নেই কোনো বিশাল কর্মী বাহিনী, নেই গাড়িবহর নিয়ে ধুলো উড়ানো গণসংযোগ, কিংবা কোটি টাকার জৌলুস। তবুও তিনি থেমে নেই; নিজের মতো করে, নীরবে-নিভৃতে চালিয়ে যাচ্ছেন তার প্রচারণা।জহর লাল দত্তের প্রচারণার কৌশল একেবারেই ভিন্ন, যেন মাটির কাছাকাছি থাকা এক মানুষের গল্প। শহরের জাঁকজমকপূর্ণ সভার বদলে তাকে দেখা যাচ্ছে হন্তদন্ত হয়ে হাসপাতালের করিডরে। সেখানে রোগী ও তাদের স্বজনদের কুশল বিনিময়ের ফাঁকে তিনি বিনীতভাবে চাইছেন ভোট। কখনো বা তাকে পাওয়া যাচ্ছে রাস্তার ধারের ছোট্ট কোনো চায়ের দোকানে।

সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে গিয়ে চায়ের আড্ডায় বসে তিনি তুলে ধরছেন তার কাস্তে প্রতীকের কথা, চাইছেন সমর্থন।গ্রাম কিংবা মফস্বলের চিত্রও একই। বিশাল মঞ্চ করে জনসভা করার সাধ্য বা ইচ্ছে তার নেই। তিনি বেছে নিয়েছেন বাড়ির আঙিনা। ১০ থেকে ১২ জন নারী-পুরুষকে নিয়ে ছোট ছোট উঠোন বৈঠকেই তিনি সাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। সেখানেই তিনি মেহনতি মানুষের অধিকার আর দিনবদলের কথা বলছেন।সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো তার রাজনৈতিক শিষ্টাচার। বর্তমান সময়ের বিষোদগারপূর্ণ রাজনীতির ভিড়ে জহর লাল দত্ত এক বিরল দৃষ্টান্ত। প্রতিদ্বন্দ্বী হেভিওয়েট প্রার্থীদের নিয়ে তার মুখে নেই তেমন কোনো সমালোচনা বা কটু কথা। তিনি কারো দোষ খুঁজছেন না,শুধু নিজের সততা আর আদর্শকে পুঁজি করে মানুষের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ চেয়ে যাচ্ছেন।ভোটারদের অনেকে বলছেন,ভোটের মাঠে জহর বাবু হয়তো টাকার জোরে লড়তে পারবেন না, কিন্তু তার মতো সজ্জন ও বিনয়ী মানুষই সমাজের আসল অলংকার।নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, জহর লাল দত্ত তার এই নীরব ও সাদামাটা প্রচারণার মাধ্যমে মৌলভীবাজারের রাজনীতিতে এক স্নিগ্ধ ও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।তবে প্রচারণায় নীরব থাকলেও জহর লাল দত্তের রয়েছে দীর্ঘ ৪০ বছরের এক সরব সংগ্রামের ইতিহাস। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, হাওর রক্ষা আন্দোলন এবং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে তিনি সবসময় রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষার এই পরীক্ষিত নেতা টাকার দাপটের কাছে হার না মানা অকুতোভয় নীতি ও আদর্শের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নীরবে নিভৃতে যুদ্ধ পরিচালনায় অভুতপূর্ব কৌশলী মানুষ জহর লাল দত্ত।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

নির্বাচনে ভিন্ন কৌশলী প্রচারণায় সিপিবি প্রার্থী জহর লাল দত্ত

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:০১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মৌলভীবাজার-৩(সদর ও রাজনগর) আসনে চলছে তুমুল উত্তেজনা। একদিকে বিএনপি, জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিশাল শোডাউন,অন্যদিকে মাইকিং আর স্লোগানে মুখর রাজপথ। কিন্তু এই কোলাহলের ঠিক বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে এক নিঃশব্দ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) বর্ষীয়ান নেতা জহর লাল দত্ত।বড় দলগুলোর প্রার্থীদের পোস্টার-ব্যানারে আকাশ ঢেকে গেলেও জহর লাল দত্তের নামটা নির্বাচনী মাঠে খুব একটা উচ্চস্বরে ভেসে আসছে না। নেই কোনো বিশাল কর্মী বাহিনী, নেই গাড়িবহর নিয়ে ধুলো উড়ানো গণসংযোগ, কিংবা কোটি টাকার জৌলুস। তবুও তিনি থেমে নেই; নিজের মতো করে, নীরবে-নিভৃতে চালিয়ে যাচ্ছেন তার প্রচারণা।জহর লাল দত্তের প্রচারণার কৌশল একেবারেই ভিন্ন, যেন মাটির কাছাকাছি থাকা এক মানুষের গল্প। শহরের জাঁকজমকপূর্ণ সভার বদলে তাকে দেখা যাচ্ছে হন্তদন্ত হয়ে হাসপাতালের করিডরে। সেখানে রোগী ও তাদের স্বজনদের কুশল বিনিময়ের ফাঁকে তিনি বিনীতভাবে চাইছেন ভোট। কখনো বা তাকে পাওয়া যাচ্ছে রাস্তার ধারের ছোট্ট কোনো চায়ের দোকানে।

সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে গিয়ে চায়ের আড্ডায় বসে তিনি তুলে ধরছেন তার কাস্তে প্রতীকের কথা, চাইছেন সমর্থন।গ্রাম কিংবা মফস্বলের চিত্রও একই। বিশাল মঞ্চ করে জনসভা করার সাধ্য বা ইচ্ছে তার নেই। তিনি বেছে নিয়েছেন বাড়ির আঙিনা। ১০ থেকে ১২ জন নারী-পুরুষকে নিয়ে ছোট ছোট উঠোন বৈঠকেই তিনি সাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। সেখানেই তিনি মেহনতি মানুষের অধিকার আর দিনবদলের কথা বলছেন।সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো তার রাজনৈতিক শিষ্টাচার। বর্তমান সময়ের বিষোদগারপূর্ণ রাজনীতির ভিড়ে জহর লাল দত্ত এক বিরল দৃষ্টান্ত। প্রতিদ্বন্দ্বী হেভিওয়েট প্রার্থীদের নিয়ে তার মুখে নেই তেমন কোনো সমালোচনা বা কটু কথা। তিনি কারো দোষ খুঁজছেন না,শুধু নিজের সততা আর আদর্শকে পুঁজি করে মানুষের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ চেয়ে যাচ্ছেন।ভোটারদের অনেকে বলছেন,ভোটের মাঠে জহর বাবু হয়তো টাকার জোরে লড়তে পারবেন না, কিন্তু তার মতো সজ্জন ও বিনয়ী মানুষই সমাজের আসল অলংকার।নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, জহর লাল দত্ত তার এই নীরব ও সাদামাটা প্রচারণার মাধ্যমে মৌলভীবাজারের রাজনীতিতে এক স্নিগ্ধ ও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।তবে প্রচারণায় নীরব থাকলেও জহর লাল দত্তের রয়েছে দীর্ঘ ৪০ বছরের এক সরব সংগ্রামের ইতিহাস। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, হাওর রক্ষা আন্দোলন এবং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে তিনি সবসময় রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষার এই পরীক্ষিত নেতা টাকার দাপটের কাছে হার না মানা অকুতোভয় নীতি ও আদর্শের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নীরবে নিভৃতে যুদ্ধ পরিচালনায় অভুতপূর্ব কৌশলী মানুষ জহর লাল দত্ত।