ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

চরম্বার হত্যাকাণ্ড: নীরব থাকলে সমাজই ধ্বংসের পথে

মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৪২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • / ১১ বার পঠিত

মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম:   জমি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে, মতপার্থক্য থাকতে পারে এটাই বাস্তবতা। কিন্তু সেই বিরোধের জেরে মানুষ মানুষকে হত্যা করবে, রক্ত ঝরাবে এটা কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। এটি সরাসরি বর্বরতা, এটি মানবতার চরম অবক্ষয়।
গত বুধবার চরম্বায় ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ড আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। একজন মাদ্রাসার প্রধান, একজন শিক্ষক, একজন সমাজের দায়িত্বশীল মানুষকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে। এটা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি পুরো সমাজব্যবস্থার ওপর এক ভয়ংকর আঘাত। যে সমাজে শিক্ষকও নিরাপদ নয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
প্রশ্ন উঠছে, আমরা কি ধীরে ধীরে সভ্যতার মুখোশ পরে বর্বরতার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি? আইনের শাসন কি দুর্বল হয়ে পড়ছে, নাকি আমরা নিজেরাই আইনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছি?
এখানে স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেওয়া জরুরি যে, দেশে এখনো আইনের শাসন বিদ্যমান। রয়েছে সুপ্রতিষ্ঠিত আদালত ব্যবস্থা, রয়েছে পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব থাকা সত্ত্বেও আইনের আশ্রয় না নিয়ে কাউকে হত্যা করা মানব ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধগুলোর একটি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল অপরাধই নয়, এটি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও সভ্য সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ।
এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতার শেষ নয়, এটি পুরো সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। একবার রক্তের পথ শুরু হলে তা থামানো কঠিন হয়ে যায়। প্রতিশোধ, হিংসা আর পাল্টা আঘাতের এই সংস্কৃতি চলতে থাকলে সমাজ ধীরে ধীরে আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকারের দিকেই ফিরে যাবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।
এখনই যদি কঠোরভাবে এই প্রবণতা রোধ করা না যায়, তবে ভবিষ্যৎ আরও ভয়াবহ হবে। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে দায়িত্ব নিতে হবে। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া মানেই ভবিষ্যতের আরও বড় অপরাধকে আমন্ত্রণ জানানো।
এটি আর সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। এটি একটি সতর্কবার্তা, একটি অ্যালার্ম, যা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে সমাজ কতটা বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। এখনই যদি আমরা নীরব থাকি, তবে আগামী দিনগুলোতে এমন রক্তাক্ত ঘটনা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
সময় এখনই,  মানবিকতা ফিরিয়ে আনার, ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করার এবং সহিংসতার এই বিষবাষ্প চিরতরে বন্ধ করার। নইলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

চরম্বার হত্যাকাণ্ড: নীরব থাকলে সমাজই ধ্বংসের পথে

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৪২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম:   জমি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে, মতপার্থক্য থাকতে পারে এটাই বাস্তবতা। কিন্তু সেই বিরোধের জেরে মানুষ মানুষকে হত্যা করবে, রক্ত ঝরাবে এটা কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। এটি সরাসরি বর্বরতা, এটি মানবতার চরম অবক্ষয়।
গত বুধবার চরম্বায় ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ড আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। একজন মাদ্রাসার প্রধান, একজন শিক্ষক, একজন সমাজের দায়িত্বশীল মানুষকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে। এটা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি পুরো সমাজব্যবস্থার ওপর এক ভয়ংকর আঘাত। যে সমাজে শিক্ষকও নিরাপদ নয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
প্রশ্ন উঠছে, আমরা কি ধীরে ধীরে সভ্যতার মুখোশ পরে বর্বরতার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি? আইনের শাসন কি দুর্বল হয়ে পড়ছে, নাকি আমরা নিজেরাই আইনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছি?
এখানে স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেওয়া জরুরি যে, দেশে এখনো আইনের শাসন বিদ্যমান। রয়েছে সুপ্রতিষ্ঠিত আদালত ব্যবস্থা, রয়েছে পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব থাকা সত্ত্বেও আইনের আশ্রয় না নিয়ে কাউকে হত্যা করা মানব ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধগুলোর একটি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল অপরাধই নয়, এটি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও সভ্য সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ।
এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতার শেষ নয়, এটি পুরো সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। একবার রক্তের পথ শুরু হলে তা থামানো কঠিন হয়ে যায়। প্রতিশোধ, হিংসা আর পাল্টা আঘাতের এই সংস্কৃতি চলতে থাকলে সমাজ ধীরে ধীরে আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকারের দিকেই ফিরে যাবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।
এখনই যদি কঠোরভাবে এই প্রবণতা রোধ করা না যায়, তবে ভবিষ্যৎ আরও ভয়াবহ হবে। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে দায়িত্ব নিতে হবে। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া মানেই ভবিষ্যতের আরও বড় অপরাধকে আমন্ত্রণ জানানো।
এটি আর সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। এটি একটি সতর্কবার্তা, একটি অ্যালার্ম, যা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে সমাজ কতটা বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। এখনই যদি আমরা নীরব থাকি, তবে আগামী দিনগুলোতে এমন রক্তাক্ত ঘটনা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
সময় এখনই,  মানবিকতা ফিরিয়ে আনার, ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করার এবং সহিংসতার এই বিষবাষ্প চিরতরে বন্ধ করার। নইলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।