, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
নাগরিক শিরোনাম :
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ঢাকাস্থ অফিসে কম্পিউটার অপারেটর ও পিওন আবশ্যক। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন : 09649-230220 ও মুঠোফোন : 01915-708187

দৌলতদিয়ায় বর্ষা মৌসুমের আগেই পদ্মার ভাঙ্গন শুরু: হুমকির মুখে নদীপাড়বাসী

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী:     রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে । বিশেষ করে দৌলতদিয়া ১, ২ ও ৩ নং ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়ায় নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, স্থাপনা এবং স্থানীয় জনজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙনের কারণে নদীপাড়ের বাসিন্দারা চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ।
গতকাল রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ১, ২ ও ৩ নং ফেরিঘাটের বিভিন্ন অংশে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোথাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে পাড়ের মাটি। এতে নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলো নিজেদের ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মমিন মণ্ডল বলেন, “আমাদের বাড়ি নদীর খুব কাছেই। রাতে ঘুমাতে গেলেও ভয় লাগে, এই বুঝি ঘর নদীতে চলে গেল। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। দ্রুত নদীশাসনের ব্যবস্থা করে আমাদের বসতবাড়ি রক্ষা করা হোক। ”
আরেক বাসিন্দা মোছা. আকলিমা বেগম বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, আমাদের দেখার যেন কেউ নেই। কয়েক দফা ভাঙনের কারণে আগেই অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। শুধু আশ্বাস শুনি, কিন্তু ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো কাজ চোখে পড়ছে না। সব সময় ভয় হয়, কখন আমাদের ঘরবাড়িও নদীতে চলে যায়।”
স্থানীয় বাসিন্দা রোজিনা আক্তার বলেন, “নদীভাঙনের কারণে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে থাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
এবিষয়ে দৌলতদিয়া ঘাট শাখার বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনপ্রবণ এলাকা। প্রায় প্রতিবছরই এখানে নদীভাঙন দেখা দেয়। বর্তমানে ৩ নং ফেরিঘাটের পেছন দিকেও ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকও ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করছি।”
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাশ বলেন, “নদীভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার জানান, তারা দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাট সহ গোয়ালন্দের পদ্মানদী তীরবর্তী অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে ইতিমধ্যে অবহিত করেছেন। অনুমোদন পেলে কাজ করা হবে।
জনপ্রিয়

জলবায়ু ন্যায্যতা, কমিউনিটি নেটওয়ার্কিং প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা

দৌলতদিয়ায় বর্ষা মৌসুমের আগেই পদ্মার ভাঙ্গন শুরু: হুমকির মুখে নদীপাড়বাসী

সর্বশেষ : ১১:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী:     রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে । বিশেষ করে দৌলতদিয়া ১, ২ ও ৩ নং ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়ায় নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, স্থাপনা এবং স্থানীয় জনজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙনের কারণে নদীপাড়ের বাসিন্দারা চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ।
গতকাল রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ১, ২ ও ৩ নং ফেরিঘাটের বিভিন্ন অংশে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোথাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে পাড়ের মাটি। এতে নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলো নিজেদের ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মমিন মণ্ডল বলেন, “আমাদের বাড়ি নদীর খুব কাছেই। রাতে ঘুমাতে গেলেও ভয় লাগে, এই বুঝি ঘর নদীতে চলে গেল। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। দ্রুত নদীশাসনের ব্যবস্থা করে আমাদের বসতবাড়ি রক্ষা করা হোক। ”
আরেক বাসিন্দা মোছা. আকলিমা বেগম বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, আমাদের দেখার যেন কেউ নেই। কয়েক দফা ভাঙনের কারণে আগেই অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। শুধু আশ্বাস শুনি, কিন্তু ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো কাজ চোখে পড়ছে না। সব সময় ভয় হয়, কখন আমাদের ঘরবাড়িও নদীতে চলে যায়।”
স্থানীয় বাসিন্দা রোজিনা আক্তার বলেন, “নদীভাঙনের কারণে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে থাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
এবিষয়ে দৌলতদিয়া ঘাট শাখার বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনপ্রবণ এলাকা। প্রায় প্রতিবছরই এখানে নদীভাঙন দেখা দেয়। বর্তমানে ৩ নং ফেরিঘাটের পেছন দিকেও ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকও ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করছি।”
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাশ বলেন, “নদীভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার জানান, তারা দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাট সহ গোয়ালন্দের পদ্মানদী তীরবর্তী অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে ইতিমধ্যে অবহিত করেছেন। অনুমোদন পেলে কাজ করা হবে।