, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
নাগরিক শিরোনাম :
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ঢাকাস্থ অফিসে কম্পিউটার অপারেটর ও পিওন আবশ্যক। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন : 09649-230220 ও মুঠোফোন : 01915-708187

খড়মা খাল গভীর করে পুনঃ খননে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

শহীদুল ইসলাম সোহাগ, বাগেরহাট:   প্রায় দুই যুগ ভরাট হয়ে থাকা পূর্ব সুন্দরবনের খড়মা খাল পুনঃ খননে ব্যপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃ খনন প্রকল্পের খাল ডিজাইন মতো পুরোপুরি না কেটে ঠিকাদার সরঞ্জাম নিয়ে চলে গেছে। বিষয়টি দেখার জন্য সুন্দরবন বিভাগ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি পাঠিয়েছে। সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এক বছর মেয়াদে খড়মা ও আড়ুয়ারবেড় খাল দুটি পুনঃ খননের দায়িত্ব দেয় খুলনাস্থ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আমিন এন্ড কোং কে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই যুগ আগে পলী জমে ভরাট হয়ে সরু খালে পরিণত হয় সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর ফরেষ্ট ষ্টেশন অফিস সংলগ্ন আড়ুয়ারবেড় খাল ও চাঁদপাই ষ্টেশনের খড়মা খাল। খাল দুটিতে জোয়ার ভাটার স্রোত ছিলোনা। নৌযান চলাচল করতে পারতো না।
সরোজমিনে  সুন্দরবনের জিউধরা ফরেষ্ট ষ্টেশন সংলগ্ন খড়মা খালে গিয়ে দেখা যায়, শ্যালা নদীর মোহনা থেকে শুরু করে চাঁদপাই রেঞ্জ সদর হয়ে জিউধরা ফরেষ্ট ষ্টেশনের বড়ইতলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ি পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার খালের বড়ইতলা এলাকার প্রায় আড়াই কিলোমিটার খাল যেনতেন দায়সারা ভাবে কাটা হয়েছে। খালের গভীরতা নেই। খালের দুই পাড়ে তেমন মাটি ওঠেনি।
বড়ইতলা টহল ফাঁড়ির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বনরক্ষী বলেন, খড়মা খাল পুনঃ খননে ঠিকাদার ব্যপক অনিয়ম করেছেন। খালের গভীরতা নেই। জোয়ার এলে কিছুটা পানির প্রবাহ হয়। ভাটার সময় সেই আগের মতো খালে পানি থাকেনা। তা ছাড়া খড়মা খাল থেকে সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত কয়েকটি সরু নালা খালের সংযোগ না কাটায় জোয়ারের পানি সুন্দরবনের মধ্যে যেতে পারছেনা ফলে আগুনের ঝুঁকি থেকেই যায়।
খড়মা খাল পুনঃ খননে ঠিকাদারের অনিয়মের বিষয়টিতে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগীয় সদর দপ্তর থেকে গত ৩ জুন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলীকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে বন বিভাগের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
খড়মা খাল পুনঃ খননের দায়িত্ব প্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খুলনাস্থ মেসার্স আমিন এন্ড কোংএর সত্বাধিকারী শেখ মারুফ বিল্লাহ বলেন, খড়মা খাল পুনঃ খননে কোন অনিয়ম হয়নি। ডিজাইন মতো খাল খনন করা হয়েছে বলে ঠিকাদার জানান।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল বলেন, সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় পূর্ব সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে খড়মা খাল পুনঃ খনন কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সরেজমিনে অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে নির্বাহী প্রকৌশলী জানান।
সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের পরিচালক ও বনবিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সি এফ) ইমরান আহমেদ বলেন, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের খড়মা ও আড়ুয়াবেড় খাল পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে। খড়মা খালে ঠিকাদারের অনিয়মের বিষয়টি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। খাল পুনঃ খনন ডিজাইন মতো না হলে ঠিকাদারকে কাজের বিল দেওয়া হবেনা বলে সিএফ জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়

জলবায়ু ন্যায্যতা, কমিউনিটি নেটওয়ার্কিং প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা

খড়মা খাল গভীর করে পুনঃ খননে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

সর্বশেষ : ০৯:৪৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
শহীদুল ইসলাম সোহাগ, বাগেরহাট:   প্রায় দুই যুগ ভরাট হয়ে থাকা পূর্ব সুন্দরবনের খড়মা খাল পুনঃ খননে ব্যপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃ খনন প্রকল্পের খাল ডিজাইন মতো পুরোপুরি না কেটে ঠিকাদার সরঞ্জাম নিয়ে চলে গেছে। বিষয়টি দেখার জন্য সুন্দরবন বিভাগ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি পাঠিয়েছে। সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এক বছর মেয়াদে খড়মা ও আড়ুয়ারবেড় খাল দুটি পুনঃ খননের দায়িত্ব দেয় খুলনাস্থ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আমিন এন্ড কোং কে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই যুগ আগে পলী জমে ভরাট হয়ে সরু খালে পরিণত হয় সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর ফরেষ্ট ষ্টেশন অফিস সংলগ্ন আড়ুয়ারবেড় খাল ও চাঁদপাই ষ্টেশনের খড়মা খাল। খাল দুটিতে জোয়ার ভাটার স্রোত ছিলোনা। নৌযান চলাচল করতে পারতো না।
সরোজমিনে  সুন্দরবনের জিউধরা ফরেষ্ট ষ্টেশন সংলগ্ন খড়মা খালে গিয়ে দেখা যায়, শ্যালা নদীর মোহনা থেকে শুরু করে চাঁদপাই রেঞ্জ সদর হয়ে জিউধরা ফরেষ্ট ষ্টেশনের বড়ইতলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ি পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার খালের বড়ইতলা এলাকার প্রায় আড়াই কিলোমিটার খাল যেনতেন দায়সারা ভাবে কাটা হয়েছে। খালের গভীরতা নেই। খালের দুই পাড়ে তেমন মাটি ওঠেনি।
বড়ইতলা টহল ফাঁড়ির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বনরক্ষী বলেন, খড়মা খাল পুনঃ খননে ঠিকাদার ব্যপক অনিয়ম করেছেন। খালের গভীরতা নেই। জোয়ার এলে কিছুটা পানির প্রবাহ হয়। ভাটার সময় সেই আগের মতো খালে পানি থাকেনা। তা ছাড়া খড়মা খাল থেকে সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত কয়েকটি সরু নালা খালের সংযোগ না কাটায় জোয়ারের পানি সুন্দরবনের মধ্যে যেতে পারছেনা ফলে আগুনের ঝুঁকি থেকেই যায়।
খড়মা খাল পুনঃ খননে ঠিকাদারের অনিয়মের বিষয়টিতে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগীয় সদর দপ্তর থেকে গত ৩ জুন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলীকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে বন বিভাগের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
খড়মা খাল পুনঃ খননের দায়িত্ব প্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খুলনাস্থ মেসার্স আমিন এন্ড কোংএর সত্বাধিকারী শেখ মারুফ বিল্লাহ বলেন, খড়মা খাল পুনঃ খননে কোন অনিয়ম হয়নি। ডিজাইন মতো খাল খনন করা হয়েছে বলে ঠিকাদার জানান।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল বলেন, সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় পূর্ব সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে খড়মা খাল পুনঃ খনন কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সরেজমিনে অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে নির্বাহী প্রকৌশলী জানান।
সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের পরিচালক ও বনবিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সি এফ) ইমরান আহমেদ বলেন, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের খড়মা ও আড়ুয়াবেড় খাল পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে। খড়মা খালে ঠিকাদারের অনিয়মের বিষয়টি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। খাল পুনঃ খনন ডিজাইন মতো না হলে ঠিকাদারকে কাজের বিল দেওয়া হবেনা বলে সিএফ জানিয়েছেন।