
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার এক সময়ের শান্তিপ্রিয় ও আদর্শ হিসেবে পরিচিত বড়আলমপুর ও বিনাইপাড় গ্রাম বর্তমানে মাদকের ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিশোর, তরুণ ও যুবকদের পাশাপাশি ভ্যান ও অটোরিকশা চালকদের মধ্যেও মাদকাসক্তি ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দুই গ্রামে বর্তমানে প্রায় তিন শতাধিক মাদকসেবী ও মাদক কারবারি সক্রিয় রয়েছে, যাদের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯টায় পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড়আলমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুই গ্রামের ৬৩টি বাড়ির সচেতন প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সভায় বক্তারা মাদকের কারণে এলাকার ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন।
বক্তারা জানান, প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস এই দুই গ্রামে। ৬৩টি বাড়িতে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের আবাস এবং ভোটার সংখ্যা চার হাজারেরও বেশি। এক সময় আদর্শ গ্রাম হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় শিক্ষার প্রসারে আদর্শ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলেও বর্তমানে গোমতী নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দারা মাদকের কড়াল গ্রাসে আক্রান্ত।
তাঁরা বলেন, মাদকের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়েছে। সম্প্রতি মাদকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে এক মাদকাসক্ত ছেলে নিজের বাবাকে পিটিয়ে হত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটিয়েছে। চলতি বছরে ১৩ জন মাদকাসক্তকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো এবং মোবাইল কোর্ট ও নিয়মিত মামলার মাধ্যমে ২৩ জনকে কারাগারে পাঠানো হলেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে এবং শাহজালাল জুয়েলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম সফিক, ব্যবসায়ী আবুল হোসেন, সাবেক পৌর কমিশনার সফিকুল ইসলাম, মো. নজরুল ইসলাম, মো. সেলিম মাস্টার, মো. হুমায়ূন কবির, মো. সাইফুল ইসলাম, সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীব, মো. মাহফুজ নান্টুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার ও সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। ছেলে-মেয়েদের সুশিক্ষা, খেলাধুলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার প্রতি আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি পারিবারিক কাউন্সেলিং ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। একই সঙ্গে মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
এছাড়া সন্ধ্যার পর গোমতী নদীর পাড়সহ নির্জন স্থানে তরুণদের দলবদ্ধ আড্ডা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন উপস্থিত সচেতন নাগরিকরা। বড়আলমপুর আদর্শ গ্রামের সুনাম ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তারা।

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার 


















