
জাহাঙ্গীর আলম, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম): দুই হাত নেই, তবুও হার মানেননি মোবারক; বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তির সুযোগ
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা অনেকের কাছে জীবনের পথচলাকে কঠিন করে তোলে। কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং স্বপ্নকে বুকে ধারণ করলে কোনো বাধাই যে অতিক্রম করা অসম্ভব নয়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর গ্রামের মোবারক হোসেন।
জীবনের প্রতিটি ধাপে তাঁকে লড়াই করতে হয়েছে নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে। তবুও কখনো হার মানেননি তিনি। সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে গেছেন নিজের লক্ষ্যের দিকে। সেই সংগ্রামেরই স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
মোবারক হোসেন কাশিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ৩.৮৩ জিপিএ এবং কাশিপুর ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ৩.৭৫ জিপিএ অর্জন করেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বরং প্রতিটি চ্যালেঞ্জ তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে, আরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জুগিয়েছে।
মোবারকের স্বপ্ন, একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করা। তাঁর এই সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি সমাজের হাজারো প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার এক আলোকবর্তিকা।
মোবারকের এই অর্জনে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস জোগাবে।
দুই হাত না থাকলেও তাঁর স্বপ্নের ডানা আছে। সেই ডানায় ভর করেই মোবারক এগিয়ে যাচ্ছেন নতুন এক সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে।

জাহাঙ্গীর আলম, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) 



















