
উজ্জ্বল মাহমুদ, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পারিবারিক কলহের জেরে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। ছেলের মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ হয়ে পুত্রবধূকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটানোর অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বাগুলাট ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক সুমন হোসেন (২৫) স্থানীয় একটি কারখানায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। আহত গৃহবধূ শিউলি খাতুন (২৩) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।
স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, সুমন এক বছর আগে বিদেশ যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে ঋণ করেন। দালালের মাধ্যমে বিদেশ যেতে না পারায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খোয়ান তিনি। ছয় মাস আগে বাবা-মায়ের কাছ। দেনা শোধ করেন। ক লাখ টাকা ধার নিয়ে কা নিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মধ্যে প্রাইজ ঝগড়া লেগে থাকত। সোমবার সন্ধ্যায় সুমনের মা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে বউ-শাশুড়ির মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। সুমন রাতে তার স্ত্রীকে মারধর করেন। পরদিন সকালে শিউলি বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য মালামাল গুছিয়ে ভ্যান ডাকতে বের হন। ফিরে এসে দেখেন, সুমন ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
শিউলির চিৎকারে স্বজনরা এগিয়ে এসে সুমনকে নিচে নামান। এ সময় শ্বশুর উকিল উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে শিউলির মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। শিউলি খাতুন বলেন, “আমার শ্বশুর-শাশুড়ি সব সময় আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। তাদের কারণেই আমার স্বামী আত্মহত্যা করেছে। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুর আমাকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেন।” সুমনের বাবা উকিল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “বউয়ের কারণেই আমার ছেলে মারা গেছে। তবে আমি কোনো বিচার চাই না।”
কুমারখালী থানার ওসি মো. সোলায়মান শেখ বলেন, “মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।”

ডেস্ক রিপোর্ট 



















