ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

রাণীশংকৈলে পতিত জমি থেকে লাভের পথে, আনারস চাষে সফল উমের আলী

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ সবুজ পাতার সারির ফাঁকে ফাঁকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে লালচে-সবুজ রঙের আনারস। গাছের গোড়ায় ঝুলে থাকা প্রতিটি ফল যেন জানান দিচ্ছে- রাণীশংকৈলের মাটিতেও বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের আলশিয়া গ্রামের কৃষক উমের আলীর আনারস বাগানে গেলেই চোখে পড়ে এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।

প্রায় ৪০ বছর ধরে আনারস চাষের সঙ্গে যুক্ত উমের আলী। শুরুতে পারিবারিক চাহিদা পূরণের জন্য অল্প পরিসরে চাষ শুরু করলেও বর্তমানে বাড়ির উঠান, বাঁশঝাড় ও পতিত জমিসহ প্রায় এক বিঘা এলাকায় আনারসের বাগান গড়ে তুলেছেন। পাশাপাশি নিজেই আনারসের চারা উৎপাদন করছেন। বাগানে উৎপাদিত রসালো আনারস তিনি নিজেই সাইকেলে করে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করেন। প্রতিটি আনারস ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে প্রথমবার বড় পরিসরে চাষ করায় প্রত্যাশার তুলনায় ফলন কিছুটা কম হয়েছে বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি তার বাগান পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এ সময় তিনি আনারসের গাছ, ফলের বৃদ্ধি ও পরিচর্যার বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন এবং কৃষক উমের আলীর সঙ্গে কথা বলেন। উমের আলীর এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে আনারস চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

কৃষক উমের আলী বলেন, “আমাদের এলাকার মাটিতেও ভালো মানের আনারস উৎপাদন সম্ভব। সরকারি সহায়তা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উন্নত জাতের চারা পেলে আরও বড় পরিসরে আনারস চাষ করতে চাই।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, “রাণীশংকৈলে এত বড় পরিসরে আনারস চাষ একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। কৃষক উমের আলী প্রমাণ করেছেন, এ অঞ্চলের মাটিতেও বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। আগ্রহী কৃষকদের কৃষি অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হবে।” কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পতিত জমিতে লাভজনক আনারস চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি রাণীশংকৈলের কৃষিতে উন্মোচিত হবে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

লোহাগড়া উপজেলা কৃষকদলের নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে মিছিল

20 September 2026

নাঙ্গলকোট গ্রাজুয়েটস অ্যাসোসিয়েশন'র অভিষেক ও আহ্বায়ক কমিটি গঠন

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

রাণীশংকৈলে পতিত জমি থেকে লাভের পথে, আনারস চাষে সফল উমের আলী

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১২:৩৫:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ সবুজ পাতার সারির ফাঁকে ফাঁকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে লালচে-সবুজ রঙের আনারস। গাছের গোড়ায় ঝুলে থাকা প্রতিটি ফল যেন জানান দিচ্ছে- রাণীশংকৈলের মাটিতেও বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের আলশিয়া গ্রামের কৃষক উমের আলীর আনারস বাগানে গেলেই চোখে পড়ে এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।

প্রায় ৪০ বছর ধরে আনারস চাষের সঙ্গে যুক্ত উমের আলী। শুরুতে পারিবারিক চাহিদা পূরণের জন্য অল্প পরিসরে চাষ শুরু করলেও বর্তমানে বাড়ির উঠান, বাঁশঝাড় ও পতিত জমিসহ প্রায় এক বিঘা এলাকায় আনারসের বাগান গড়ে তুলেছেন। পাশাপাশি নিজেই আনারসের চারা উৎপাদন করছেন। বাগানে উৎপাদিত রসালো আনারস তিনি নিজেই সাইকেলে করে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করেন। প্রতিটি আনারস ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে প্রথমবার বড় পরিসরে চাষ করায় প্রত্যাশার তুলনায় ফলন কিছুটা কম হয়েছে বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি তার বাগান পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এ সময় তিনি আনারসের গাছ, ফলের বৃদ্ধি ও পরিচর্যার বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন এবং কৃষক উমের আলীর সঙ্গে কথা বলেন। উমের আলীর এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে আনারস চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

কৃষক উমের আলী বলেন, “আমাদের এলাকার মাটিতেও ভালো মানের আনারস উৎপাদন সম্ভব। সরকারি সহায়তা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উন্নত জাতের চারা পেলে আরও বড় পরিসরে আনারস চাষ করতে চাই।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, “রাণীশংকৈলে এত বড় পরিসরে আনারস চাষ একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। কৃষক উমের আলী প্রমাণ করেছেন, এ অঞ্চলের মাটিতেও বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। আগ্রহী কৃষকদের কৃষি অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হবে।” কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পতিত জমিতে লাভজনক আনারস চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি রাণীশংকৈলের কৃষিতে উন্মোচিত হবে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত।

Share this news as a Photo Card