, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
নাগরিক শিরোনাম :
জাতীয় ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইনে শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ৬-দফা দাবিতে লালপুরে ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন সন্ত্রাস বিরোধী আইনে নিষিদ্ধ আ.লীগের চার নেতা গ্রেফতার গৌরীপুরে খাদ্য গুদাম নির্মাণ কাজে চরম স্থবিরতা অপপ্রচার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল সহকর্মীর হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হলেন শিক্ষিকা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় প্রাইভেট শিক্ষক গ্রেফতার ৩০-আঙুল নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুর পরিবারকে সহায়তা বর্ণাঢ্য আয়োজন ৭১ টেলিভিশনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন দেশবিরোধী অপতৎপরতা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যুবদলের বিক্ষোভ
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ঢাকাস্থ অফিসে কম্পিউটার অপারেটর ও পিওন আবশ্যক। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন : 09649-230220 ও মুঠোফোন : 01915-708187

শিবগঞ্জে ৪০০ বছরের পুরোনো  গাংনগর মেলা উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গাংনগর শিবমন্দিরকে ঘিরে এবারও বসেছে প্রায় চার শতাব্দী পুরোনো ঐতিহ্যবাহী গাংনগর মেলা। একসময় মাসব্যাপী চলা এই মেলা এখন সপ্তাহজুড়েই সীমাবদ্ধ থাকলেও আজও সেই রঙিন উৎসবের আবহ মুছে যায়নি স্থানীয়দের মন থেকে।

স্থানীয়দের মতে, বৈশাখ মাসের প্রথম সোম বা বৃহস্পতিবার যেদিন আগে আসে, সেদিন থেকেই মেলা শুরু হয়। এবার তা শুরু হয়েছে ১৮ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার থেকে। গাংনগর মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের প্রায় অর্ধশত গ্রামে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। মেয়েরা স্বামী-সন্তানসহ ফিরে এসেছেন বাবার বাড়িতে, আত্মীয়-স্বজনেরাও নিমন্ত্রণ খেতে ভিড় জমিয়েছেন।

চার শতাব্দীর ইতিহাস: স্থানীয় প্রবীণ মিজানুর রহমান জানান, প্রায় ৪০০ বছর আগে এক হিন্দু জমিদার শিবের আরাধনায় খনন করেছিলেন ১৮ বিঘা আয়তনের ‘শিবসাগর’ পুকুর। সেই থেকেই শুরু হয় এই মেলার ঐতিহ্য। একসময় চড়ক পূজাও হতো, এখন শুধু শীতলা মন্দিরে পূজা হয় এবং শিবমন্দির থেকে প্রায় ৪০০ গজ দূরে বিদ্যালয়ের মাঠে বসে মূল মেলা।

 

মেলায় রঙিন মিষ্টির ছড়াছড়ি: মেলার মূল আকর্ষণ রয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী মাটির হাঁড়ির রসগোল্লা ও নানা মিষ্টির পসরা। রয়েছে বালিশ, মাছ, লাভ মিষ্টি, কদমা, বাতাসা, খাগড়াই, জিলাপি, নিমকি, খাজা ও ছাঁচ (হাতি-ঘোড়া) সহ হরেক রকমের মিঠাই। রসগোল্লা মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে। আর বিশেষ রকমের মিষ্টিগুলোর দাম ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত উঠছে।

মিষ্টি দোকানি আজিজ ইসলাম জানান, “এই মেলায় মাটির হাঁড়ির রসগোল্লা বিক্রি করা আমাদের ঐতিহ্য। এবার বিক্রিও ভালো।” বিনোদনেরও আয়োজন রয়েছে: মেলায় এবারও রয়েছে সার্কাস ও হোন্ডা খেলা, যদিও যাত্রাপালা বা বড় ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন কিছুটা কমে এসেছে আগের তুলনায়।

 

প্রশাসনের তৎপরতা: দেউলী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, মেলার দিন নির্ধারণ হয়েছে বাংলা বছরের প্রথম সোমবার পড়ায় বৃহস্পতিবার মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউর রহমান বলেন, “মেলার পরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। ইতোমধ্যেই পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” মেলা যতই আধুনিকতার ছোঁয়ায় পরিবর্তিত হোক, গ্রামীণ জীবনের সরলতা ও ঐতিহ্যের অনন্য এক মিলনমেলা হয়ে রয়ে গেছে গাংনগরের এই উৎসব।

আরও খবর :
জনপ্রিয়

জাতীয় ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইনে শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা

শিবগঞ্জে ৪০০ বছরের পুরোনো  গাংনগর মেলা উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে

সর্বশেষ : ০৬:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গাংনগর শিবমন্দিরকে ঘিরে এবারও বসেছে প্রায় চার শতাব্দী পুরোনো ঐতিহ্যবাহী গাংনগর মেলা। একসময় মাসব্যাপী চলা এই মেলা এখন সপ্তাহজুড়েই সীমাবদ্ধ থাকলেও আজও সেই রঙিন উৎসবের আবহ মুছে যায়নি স্থানীয়দের মন থেকে।

স্থানীয়দের মতে, বৈশাখ মাসের প্রথম সোম বা বৃহস্পতিবার যেদিন আগে আসে, সেদিন থেকেই মেলা শুরু হয়। এবার তা শুরু হয়েছে ১৮ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার থেকে। গাংনগর মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের প্রায় অর্ধশত গ্রামে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। মেয়েরা স্বামী-সন্তানসহ ফিরে এসেছেন বাবার বাড়িতে, আত্মীয়-স্বজনেরাও নিমন্ত্রণ খেতে ভিড় জমিয়েছেন।

চার শতাব্দীর ইতিহাস: স্থানীয় প্রবীণ মিজানুর রহমান জানান, প্রায় ৪০০ বছর আগে এক হিন্দু জমিদার শিবের আরাধনায় খনন করেছিলেন ১৮ বিঘা আয়তনের ‘শিবসাগর’ পুকুর। সেই থেকেই শুরু হয় এই মেলার ঐতিহ্য। একসময় চড়ক পূজাও হতো, এখন শুধু শীতলা মন্দিরে পূজা হয় এবং শিবমন্দির থেকে প্রায় ৪০০ গজ দূরে বিদ্যালয়ের মাঠে বসে মূল মেলা।

 

মেলায় রঙিন মিষ্টির ছড়াছড়ি: মেলার মূল আকর্ষণ রয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী মাটির হাঁড়ির রসগোল্লা ও নানা মিষ্টির পসরা। রয়েছে বালিশ, মাছ, লাভ মিষ্টি, কদমা, বাতাসা, খাগড়াই, জিলাপি, নিমকি, খাজা ও ছাঁচ (হাতি-ঘোড়া) সহ হরেক রকমের মিঠাই। রসগোল্লা মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে। আর বিশেষ রকমের মিষ্টিগুলোর দাম ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত উঠছে।

মিষ্টি দোকানি আজিজ ইসলাম জানান, “এই মেলায় মাটির হাঁড়ির রসগোল্লা বিক্রি করা আমাদের ঐতিহ্য। এবার বিক্রিও ভালো।” বিনোদনেরও আয়োজন রয়েছে: মেলায় এবারও রয়েছে সার্কাস ও হোন্ডা খেলা, যদিও যাত্রাপালা বা বড় ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন কিছুটা কমে এসেছে আগের তুলনায়।

 

প্রশাসনের তৎপরতা: দেউলী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, মেলার দিন নির্ধারণ হয়েছে বাংলা বছরের প্রথম সোমবার পড়ায় বৃহস্পতিবার মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউর রহমান বলেন, “মেলার পরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। ইতোমধ্যেই পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” মেলা যতই আধুনিকতার ছোঁয়ায় পরিবর্তিত হোক, গ্রামীণ জীবনের সরলতা ও ঐতিহ্যের অনন্য এক মিলনমেলা হয়ে রয়ে গেছে গাংনগরের এই উৎসব।