
আবু সাঈদ তুষার : বিশ্ব ইজতেমা মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে জুবায়েরপন্থি ও সাদপন্থিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশ্ব ইজতেমায় তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের আহুত পাঁচদিনের জোড় ইসতেমার কাজ করার জন্য আসার পথে টঙ্গীতে জুবায়ের পন্থীদের হামলার শিকার হয় সাদপন্থী তাবলীগের সাথীরা। গতকাল (১৭ই ডিসেম্বর) মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে টঙ্গী কামারপাড়া ও স্টেশন রোডসহ বিভিন্ন জায়গায় জুবায়েরপন্থীরা রাস্তার উপরে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সাদপন্থী সাথীদের গাড়িতে হামলা করে (১৮ই ডিসেম্বর ) বুধবার সকাল পর্যন্ত বলে দাবি করেন সাদপন্থী মিডিয়া সমন্বয়কারী মো. সায়েম।
মো. সায়েম বলেন, ‘জুবায়ের পন্থীদের বাধা উপেক্ষা করে সাথীরা ইজতেমা ময়দানের পশ্চিমপাড়ে আমাদের সাদপন্থীদের মাঠে এসে উপস্থিত হয়। এমন সময় রাত্র আনুমানিক ৩টার দিকে সাথীদের জনস্রোত মার্কাজ ছাড়িয়ে কামারপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। তখন রাত তিনটার দিকে জুবায়েরপন্থীরা টঙ্গীর ময়দানের পশ্চিম পাশ থেকে ব্রিজের ওপর সাথীদের দিকে ইট পাটকেল ও আগুনের মশাল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। তখন মাওলানা সাদ সাহেবের অনুসারীদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। খবর পেয়ে সাদ অনুসারী সাথীরা ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে ময়দানে প্রবেশ করে।’দাবি করে তিনি বলেন, ‘তখন জুবায়ের পন্থীরা ধারাল চাকু ও চাপাতি দিয়ে সাথীদের ওপর আঘাত করে। এতে অসংখ্য সাথী আহত হয়। এখন পর্যন্ত দুইজন নিহতের খবর তাদের কাছে পৌঁছেছে। আরও মারাত্মক আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে শতাধিক সাথী।’
আবু সায়েম আরও বলেন, ‘জুবারপন্থীদের হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত একজনের নাম হচ্ছে বগুড়ার তাইজুল ইসলাম (৬৫)। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে সাদপন্থী লক্ষাধিক সাথী টঙ্গী ময়দানের নিয়ন্ত্রণ নেয়। অতর্কিত আক্রমণ করে এখন পর্যন্ত ২ জন সাথী নিহত ও একাধিক সাথীকে আহত হন। গুরুত্বর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে শতাধিক সাথী।এ বিষয়ে মাওলানা সাদ অনুসারী মুফতি মুয়াজ বিন নূর বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের দুই লক্ষাধিক সাথী ইজতেমা ময়দানে অবস্থান করছে। আমাদের ৫ দিনের জোড় আগামী ২০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে ইনশাআল্লাহ। সে পর্যন্ত আমরা মাঠ তৈরির কাজ করব।’গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিব ইস্কান্দার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার এগারসিন্দু এলাকার বাচ্চু মিয়া (৭০) ও ঢাকার দক্ষিণখানের বেড়াইদ এলাকাল বেলাল (৬০)। সংঘর্ষে আহত অন্তত ৩০ জন ঢাকা মেডিকেলে কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।
পুলিশ জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই তাবলীগ জামাতের মাওলানা সাদ অনুসারীদের জোড় ইজতেমাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মাওলানা জুবায়ের অনুসারীরা গত ২৯ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাওলানা জুবায়ের অনুসারীরা জোড় ইজতেমা পালন করেন। এরপর ২০ ডিসেম্বর থেকে মাওলানা সাদ অনুসারীরা জোড় ইজতেমা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিলে তাদেরকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে ইজতেমা ময়দানে অবস্থান নেন জুবায়ের অনুসারীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাদ অনুসারীদের ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ ঠেকাতে ময়দানের চারপাশে ও বিভিন্ন সড়কের মোড়ে লাঠি হাতে পাহারা বসায় জুবায়ের অনুসারীরা।
অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সাদ অনুসারীরা ইজতেমা ময়দানের উদ্দেশে বাস-ট্রাকে মাঠে আসতে থাকে। মধ্যরাতে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সাদ অনুসারীদের গাড়ি আটকে দেন জুবায়েরপন্থিরা। একপর্যায়ে রাত আড়াইটার দিকে মাওলানা সাদ অনুসারীরা ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ করলে উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের দুইজন নিহত ও অন্তত অর্ধশত মুসল্লি আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন রয়েছে।ওসি বলেন, রাতে ইজতেমা মাঠে মারামারির ঘটনায় দুইজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। একজন লোকাল হাসপাতালে, আরেকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। ৫০-৬০ জন আহতের খবর জানা গেছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























