, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
তাজা খবর :
হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ও আনন্দমুখর উৎসবে জামাইষষ্ঠী অসুস্থ হনুমান চিকিৎসা নেওয়ার জন্য নিজেই হাসপাতালে হাজির মেধার স্বাক্ষরে দেশসেরা মনিরামপুরের সুরাইয়া ও অরিত্র ব্যারিস্টার জাইমা বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করেছেন মঠবাড়িয়ায় ৩০ আঙুল নিয়ে নবজাতকের জন্ম, নেই জিহ্বাও ক্রিসেন্ট জুট মিল ৩০ বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিল মাহবুব গ্রুপ ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা
চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে তরুণ-তরুণী

বাগআঁচড়ায় নিষিদ্ধ ‘নাইট ক্রিম’ বিক্রি

জিল্লুর রহমান, যশোর:    যশোরের বাগআঁচড়া ও এর আশপাশের এলাকায় ত্বক ফর্সা করার নামে এক শ্রেণির কসমেটিকস দোকান ও বিউটি পার্লারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ তথাকথিত “নাইট ক্রিম”। কোনো রকম চিকিৎসকের পরামর্শ বা প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বিক্রি করা হচ্ছে ভারতীয় নামী-দামী ব্র্যান্ডের মোড়কে ঢাকা ‘Clobetasol’ (ক্লোবেটাসল) জাতীয় অত্যন্ত শক্তিশালী স্টেরয়েড ক্রিম। শুধু তাই নয়, অধিক মুনাফার আশায় বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক, ঔষধ ও ক্রিমের মিশ্রণে তৈরি করা হচ্ছে এই তথাকথিত জাদুকরী হোয়াইটেনিং বা নাইট ক্রিম।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাগআঁচড়া বাজারের বেশ কিছু কসমেটিকসের দোকান এবং স্থানীয় বিউটি পার্লারগুলোতে এই সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অল্প সময়ে গায়ের রঙ ফর্সা করার চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে প্রতিদিন শত শত তরুণ-তরুণী এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন।
​চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লোবেটাসল একটি উচ্চমাত্রার (High-potency) স্টেরয়েড, যা কেবল নির্দিষ্ট কিছু চর্মরোগের চিকিৎসায় চিকিৎসকের কঠোর নজরদারিতে স্বল্প সময়ের জন্য ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এটি নিয়মিত ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে চামড়া অতিরিক্ত পাতলা হয়ে ভেতরের রক্তনালী বা রগ স্পষ্ট দেখা যায়।  রোদ বা চুলার আগুনের কাছে গেলেই মুখ লাল হয়ে যায় এবং স্থায়ী ব্রণের সৃষ্টি হয়।  অল্প বয়সেই মুখের চামড়া ঝুলে পড়ে বা বয়সের ছাপ দেখা দেয়। ব্যবহার বন্ধ করলেই ত্বক আগের চেয়ে আরও বেশি কালো ও কালচে ছোপ ছোপ দাগে ভরে যায়।
​সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট কসমেটিকস ব্যবসায়ী এবং বিউটি পার্লার মালিকরা এই ক্রিমগুলোর ভয়াবহ ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জেনেও কেবল নিজেদের ব্যবসার স্বার্থে সাধারণ ক্রেতাদের হাতে এগুলো তুলে দিচ্ছেন। পার্লারগুলোতে রূপচর্চার আড়ালে নারীদের ত্বকে এই বিপজ্জনক মিশ্রণ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। বাগআঁচড়ার এই বিপজ্জনক কসমেটিকস সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো এবং ড্রাগ লাইসেন্সবিহীন এসব ক্ষতিকর ঔষধের বিক্রি বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।
​চিকিৎসকদের পরামর্শ— চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হয়ে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ধরনের রং ফর্সাকারীক্রিম ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের একমাত্র চাবিকাঠি।
জনপ্রিয়

চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে তরুণ-তরুণী

বাগআঁচড়ায় নিষিদ্ধ ‘নাইট ক্রিম’ বিক্রি

সর্বশেষ : ১১:৩২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
জিল্লুর রহমান, যশোর:    যশোরের বাগআঁচড়া ও এর আশপাশের এলাকায় ত্বক ফর্সা করার নামে এক শ্রেণির কসমেটিকস দোকান ও বিউটি পার্লারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ তথাকথিত “নাইট ক্রিম”। কোনো রকম চিকিৎসকের পরামর্শ বা প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বিক্রি করা হচ্ছে ভারতীয় নামী-দামী ব্র্যান্ডের মোড়কে ঢাকা ‘Clobetasol’ (ক্লোবেটাসল) জাতীয় অত্যন্ত শক্তিশালী স্টেরয়েড ক্রিম। শুধু তাই নয়, অধিক মুনাফার আশায় বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক, ঔষধ ও ক্রিমের মিশ্রণে তৈরি করা হচ্ছে এই তথাকথিত জাদুকরী হোয়াইটেনিং বা নাইট ক্রিম।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাগআঁচড়া বাজারের বেশ কিছু কসমেটিকসের দোকান এবং স্থানীয় বিউটি পার্লারগুলোতে এই সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অল্প সময়ে গায়ের রঙ ফর্সা করার চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে প্রতিদিন শত শত তরুণ-তরুণী এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন।
​চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লোবেটাসল একটি উচ্চমাত্রার (High-potency) স্টেরয়েড, যা কেবল নির্দিষ্ট কিছু চর্মরোগের চিকিৎসায় চিকিৎসকের কঠোর নজরদারিতে স্বল্প সময়ের জন্য ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এটি নিয়মিত ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে চামড়া অতিরিক্ত পাতলা হয়ে ভেতরের রক্তনালী বা রগ স্পষ্ট দেখা যায়।  রোদ বা চুলার আগুনের কাছে গেলেই মুখ লাল হয়ে যায় এবং স্থায়ী ব্রণের সৃষ্টি হয়।  অল্প বয়সেই মুখের চামড়া ঝুলে পড়ে বা বয়সের ছাপ দেখা দেয়। ব্যবহার বন্ধ করলেই ত্বক আগের চেয়ে আরও বেশি কালো ও কালচে ছোপ ছোপ দাগে ভরে যায়।
​সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট কসমেটিকস ব্যবসায়ী এবং বিউটি পার্লার মালিকরা এই ক্রিমগুলোর ভয়াবহ ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জেনেও কেবল নিজেদের ব্যবসার স্বার্থে সাধারণ ক্রেতাদের হাতে এগুলো তুলে দিচ্ছেন। পার্লারগুলোতে রূপচর্চার আড়ালে নারীদের ত্বকে এই বিপজ্জনক মিশ্রণ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। বাগআঁচড়ার এই বিপজ্জনক কসমেটিকস সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো এবং ড্রাগ লাইসেন্সবিহীন এসব ক্ষতিকর ঔষধের বিক্রি বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।
​চিকিৎসকদের পরামর্শ— চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হয়ে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ধরনের রং ফর্সাকারীক্রিম ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের একমাত্র চাবিকাঠি।