ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
তাজা খবর
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা টঙ্গীতে স্ত্রীর হাতে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কর্তন হরমুজ প্রণালি ও ইরানে শাসক পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কো রুবিও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার বাংলাদেশ ব্যাংকে ১০৮ সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ রাজস্ব আদায় বাড়াতে সিটি কর্পোরেশন প্রশাসকের নির্দেশনা
সাতক্ষীরায় মানবাধিকার সংগঠন "অধিকারের" সমাবেশে বক্তারা

মানবাধিকার কমিশনসহ ১৬ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করতে হবে

মুজাহিদুল ইসলাম (সাতক্ষীরা)
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:০৪:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৪৩ বার পঠিত

মুজাহিদুল ইসলাম (সাতক্ষীরা) : গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপনা না করার সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সংলগ্ন সড়কে মানবাধিকার সংগঠন “অধিকার”-এর আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন ও সমাবেশে “অধিকার” সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক সাংবাদিক মুজাহিদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ও মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক ফিরোজ হোসেন এর সঞ্চালনায়

বক্তব্য রাখেন, দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আবু সাঈদ বিশ্বাস, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক আরাফাত হোসেন, সাংবাদিক কামরুল ইসলাম, সাংবাদিক শাহজাহান আলী মিটন, মানবাধিকার কর্মী হাফিজুর রহমান প্রমুখ। এসময় বক্তারা বলেন, বিগত সরকারের সময় যেভাবে গুম, খুন হয়েছিলো তাতে মানবাধিকার কমিশন কোন প্রতিবাদ না করেই নিরব ছিলেন। এমন ঘটনা যাহাতে আর না ঘটে সেই জন্য গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৬ টি অধ্যাদেশ জারি করেছিলো ইনটেরিম সরকার। অথচ বর্তমান নির্বাচিত সরকার সেই অধ্যাদেশগুলো আইনী ভিত্তি না দিয়ে বাতিলের সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি। যা পূর্বের সরকারের ন্যায় ঠুনকো মার্কা কমিশনসহ অন্যান্য আইন বলবৎ থাকবে। বক্তারা আরো বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬, জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তবর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ এই চারটি অধ্যাদেশ বাতিল করতে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি জাতীয় সংসদে বিল আনার সুপরিশ করেছে। এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। একটি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে এই সরকারের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রিক যাত্রা শুরু করেছে। সেই বিপ্লবের প্রতি সম্মান দেখিয়েগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া বন্ধ করে অবিলম্বে আইনে পরিণত করার জোর দাবী জানান বক্তারা।

বক্তারা বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটে অংশ নিয়ে ৬৮ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ ভোট দেওয়ার বিষয় উল্লেখ করে বলেন, জনগনের এই বিপুল রায়কে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সরকার দলীয় সদস্যরা বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের দাখিল করা নোট অব ডিসেন্ট অগ্রাহ্য করে বাতিলের সুপারিশ করেছেন। অধিকার কর্মীরা স্মরণ করিয়ে দিতে চায় যে, ফ্যাসিবাদী হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে দেশের সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে দলীয়করণের মাধ্যমে আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। যার ফলে বিরোধীদলের নেতা-কর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী এবং সাধারণ নাগরিকরা বিচারিক হয়রানী, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণগ্রেফতার ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ণের শিকার হয়েছিলেন। সেই সময়ে বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চললেও হাসিনা সরকারের আজ্ঞাবহ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই ব্যাপারে তখন নিশ্চুপ ছিল। তাই এখনই এসকল অধ্যাদেশ বাতিল নার করে আইনী ভিত্তি দেওয়ার আহবান জানান বক্তারা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

সাতক্ষীরায় মানবাধিকার সংগঠন "অধিকারের" সমাবেশে বক্তারা

মানবাধিকার কমিশনসহ ১৬ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করতে হবে

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:০৪:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

মুজাহিদুল ইসলাম (সাতক্ষীরা) : গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপনা না করার সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সংলগ্ন সড়কে মানবাধিকার সংগঠন “অধিকার”-এর আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন ও সমাবেশে “অধিকার” সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক সাংবাদিক মুজাহিদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ও মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক ফিরোজ হোসেন এর সঞ্চালনায়

বক্তব্য রাখেন, দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আবু সাঈদ বিশ্বাস, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক আরাফাত হোসেন, সাংবাদিক কামরুল ইসলাম, সাংবাদিক শাহজাহান আলী মিটন, মানবাধিকার কর্মী হাফিজুর রহমান প্রমুখ। এসময় বক্তারা বলেন, বিগত সরকারের সময় যেভাবে গুম, খুন হয়েছিলো তাতে মানবাধিকার কমিশন কোন প্রতিবাদ না করেই নিরব ছিলেন। এমন ঘটনা যাহাতে আর না ঘটে সেই জন্য গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৬ টি অধ্যাদেশ জারি করেছিলো ইনটেরিম সরকার। অথচ বর্তমান নির্বাচিত সরকার সেই অধ্যাদেশগুলো আইনী ভিত্তি না দিয়ে বাতিলের সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি। যা পূর্বের সরকারের ন্যায় ঠুনকো মার্কা কমিশনসহ অন্যান্য আইন বলবৎ থাকবে। বক্তারা আরো বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬, জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তবর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ এই চারটি অধ্যাদেশ বাতিল করতে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি জাতীয় সংসদে বিল আনার সুপরিশ করেছে। এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। একটি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে এই সরকারের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রিক যাত্রা শুরু করেছে। সেই বিপ্লবের প্রতি সম্মান দেখিয়েগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া বন্ধ করে অবিলম্বে আইনে পরিণত করার জোর দাবী জানান বক্তারা।

বক্তারা বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটে অংশ নিয়ে ৬৮ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ ভোট দেওয়ার বিষয় উল্লেখ করে বলেন, জনগনের এই বিপুল রায়কে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সরকার দলীয় সদস্যরা বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের দাখিল করা নোট অব ডিসেন্ট অগ্রাহ্য করে বাতিলের সুপারিশ করেছেন। অধিকার কর্মীরা স্মরণ করিয়ে দিতে চায় যে, ফ্যাসিবাদী হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে দেশের সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে দলীয়করণের মাধ্যমে আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। যার ফলে বিরোধীদলের নেতা-কর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী এবং সাধারণ নাগরিকরা বিচারিক হয়রানী, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণগ্রেফতার ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ণের শিকার হয়েছিলেন। সেই সময়ে বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চললেও হাসিনা সরকারের আজ্ঞাবহ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই ব্যাপারে তখন নিশ্চুপ ছিল। তাই এখনই এসকল অধ্যাদেশ বাতিল নার করে আইনী ভিত্তি দেওয়ার আহবান জানান বক্তারা।