
উজ্জ্বল মাহমুদ, কুষ্টিয়া : কিছুতেই চালের দামের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। চালের দাম বাড়ার পেছনে সিন্ডিকেট নাকি ঘাটতি? এমনটিই ঘোরপাক খাচ্ছে সাধারন ক্রেতা -বিক্রেতার কাছে। গত এক সপ্তাহে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা করে বেড়েছে। খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে আরও বেশি। মিনিকেটসহ সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৪ টাকা পর্যন্ত।তবে খাজানগরের সিন্ডিকেট, মৌসুমি ঘাটতি ও নজরদারির অভাবকে দুষছেন বিশেষজ্ঞরা খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের অভিযোগ, শক্তিশালী সিন্ডিকেট চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের ইচ্ছেমতো দফায় দফায় চালের দাম বাড়ানো হচ্ছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েই চলেছে।মঙ্গলবার কুষ্টিয়ার পৌর বাজার এবং কুমারখালী পৌর বাজার ঘুরে দেখা যায়, মিনিকেট চালের দাম ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৭৪ টাকা, বাসমতি ৮৮ টাকা থেকে ৯২ টাকা, কাজললতা ৬৬ টাকা থেকে ৭০ টাকা, আঠাশ (মোটা) চাল ৫৪ টাকার পরিবর্তে ৫৮ টাকা এবং স্বর্ণা চাল ৫০ টাকা থেকে ৫৪ টাকা কেজি হয়েছে। এদিকে খাজানগরের মিলগেটে সব ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা বাড়িয়েছে মিল মালিকরা।
মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন প্রধান জানান, পুরোনো ধানের সংকট এবং সরু চালের চাহিদা বৃদ্ধি এ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।খাজানগরের কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত ১৫-১৬ বছর ধরে ১০-১২ জন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মিনিকেট চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা এ সিন্ডিকেট সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগকেও বাধাগ্রস্ত করছে। কুষ্টিয়ার জ্যেষ্ঠ কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান জানান, ধানের ঘাটতি এবং করপোরেট চাল কোম্পানির সঙ্গে গুটিকয়েক মিলমালিকের সমঝোতায় বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি সুপারিশ করেন, দ্রুত সরু চাল আমদানি করে এবং মজুত মনিটরিং জোরদার করে বাজার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া প্রয়োজন। জেলা প্রশাসনও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে। চাল কিনতে আসা নজরুল নামের ক্রেতা বলেন, “যেভাবে চালের দাম বাড়ছে, তাতে শিগগিরই কেজি প্রতি ১০০ টাকায় ঠেকবে।”
সাধারণ মানুষ পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সিন্ডিকেট ভেঙে বাজার স্থিতিশীল করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। চালের ক্রমবর্ধমান দাম মানুষের জীবনযাত্রার মানে বড় প্রভাব ফেলছে। শক্তিশালী সিন্ডিকেট এবং দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনা এর জন্য দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের শক্তিশালী মনিটরিং এবং আইনানুগ পদক্ষেপের মাধ্যমেই এ সমস্যা সমাধান সম্ভব। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোথাও কোনো অসংগতি আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়ে কোনো গড়মিল পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























