, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
নাগরিক শিরোনাম :
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ঢাকাস্থ অফিসে কম্পিউটার অপারেটর ও পিওন আবশ্যক। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন : 09649-230220 ও মুঠোফোন : 01915-708187

রাষ্ট্র এখন বন্দুকের ঘরে : জনগণ শুধু সংখ্যার হিসাব

  • মিনহাজ মোল্লা
  • সর্বশেষ : ০২:২৮:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫
  • ২৪০ বার পঠিত

একটা দেশ যখন স্বপ্ন হারায়, তখন সে আর রাষ্ট্র থাকে না—সে হয়ে ওঠে বন্দুকধারীদের প্রাইভেট কোম্পানি। আজকের বাংলাদেশে আমরা যা দেখছি, তা কোনো রাজনৈতিক বিপর্যয় নয়—এটা একটি পরিকল্পিত রাষ্ট্রদ্রোহ।

যে রাষ্ট্রে বিরোধিতা মানেই রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রশ্ন মানেই দেশদ্রোহ, আর নীরবতাই যদি নিরাপদ ভাষা হয়—সেই রাষ্ট্র আসলে ক্ষমতার একনায়ক খেলা ছাড়া আর কিছু না।

বাস্তবতা: গণতন্ত্রের নামে গণঅবজ্ঞা

২০১৪ এবং ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে “ভোটবিহীন নির্বাচন” হিসেবে। নির্বাচন কমিশন ছিল একতরফা, প্রশাসন ছিল দলীয় মঞ্চের চামচা, আর মিডিয়া ছিল সরকারের অজুহাত প্রচারের মেশিন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে শত শত কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি বিরোধী প্রার্থীর পক্ষে।
৩৬% ভোটারের নামে ভোট পড়ে যায় আগের রাতেই।
বিচার বিভাগ এখন দলীয় ব্যাজ গলায় ঝুলিয়ে রাখে—অধিকার আদায়ের মামলা মানেই “দেশবিরোধী শক্তির কাজ”।

সরকারের অদৃশ্য পরিকল্পনা: “দেশ নয়, ক্ষমতা বাঁচাও”

সরকারের মূল ফোকাস এখন আর দেশের উন্নয়ন নয়, বরং—

ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার প্রজেক্ট

১. জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ডিজিটাল সুরক্ষা আইন দিয়ে জনগণের গতিবিধি নজরে রাখা
২. সাইবার ট্রাইব্যুনাল ব্যবহার করে সমালোচকদের ভয় দেখানো
৩. নতুন পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস বিকৃতি করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধ করে তোলা

তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং বিভ্রান্তি কৌশল

১. গণমাধ্যমে একতরফা সংবাদ পরিবেশন
২. সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বট আর্মি’ দিয়ে সরকারের পক্ষে প্রচারণা
৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয় রাজনীতির অনুপ্রবেশ—যাতে ছাত্ররা প্রশ্ন করতে ভুলে যায়

অর্থনৈতিক দখলদারিত্ব

১. মেগা প্রজেক্টে দুর্নীতির নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ
২. IMF-ADB-World Bank থেকে ঋণ নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেনার দাসে পরিণত করা
৩. সরকারি ব্যাংকগুলোর টাকা বেসরকারি ব্যবসায়ীদের ‘লুট’ হিসেবে দিয়ে দেওয়া

রাষ্ট্র যখন দানবের মঞ্চ

এই রাষ্ট্রে আজ গুম হয় শিক্ষক, খুন হয় সাংবাদিক, ধর্ষণ হয় বিচারাধীন কিশোরী, আর প্রতিবাদী কণ্ঠগুলোর নামে চলে সন্ত্রাসবাদী মামলা। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে আজ আমরা অধিকার চাই না, শুধু নিরাপত্তা চাই—এই চাওয়াটাই আমাদের হেরে যাওয়া। “স্বাধীনতা মানে ভোটের অধিকার, আজ আমরা কাগজে ভোট দিই, কফিনে গলা ফাটাই।”

আগামী দিনের ভয়ঙ্কর চিত্র

  • বিরোধী দলের অস্তিত্ব থাকবে কেবল বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বোকা বানাতে
  • শিক্ষিত তরুণরা রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে
  • কর্মসংস্থানের নামে যুবকদের বাধ্য করা হবে সরকারপন্থী হবার জন্য
  • সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ—সব থাকবে “দলীয় বিশ্বাস” যাচাই করে নিয়োগকৃত

এটা গণতন্ত্রের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নয়, এটা জনগণের সর্বনাশের চূড়ান্ত অধ্যায়।

আমার শেষ কথা

আমরা যদি এখনো চুপ থাকি, তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম শুধু আমাদের নয়, আমাদের কাপুরুষতা কেই অভিশাপ দেবে। আজ দরকার সাংস্কৃতিক বিপ্লব, দরকার সত্যের রাজনৈতিক ঘুষি—না হলে একদিন এই বাংলাদেশের মানচিত্রে থাকবে শুধু একটি পরিবারের ছবি, আর একদল মূক মানুষ।

এগুলো কখনো প্রকাশ করতে দেওয়া্ হয়নি, রেখে দেওয়া হয়েছে রাস্ট্র নামক দালালির পদতলে ।

আরও খবর :
জনপ্রিয়

জলবায়ু ন্যায্যতা, কমিউনিটি নেটওয়ার্কিং প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা

রাষ্ট্র এখন বন্দুকের ঘরে : জনগণ শুধু সংখ্যার হিসাব

সর্বশেষ : ০২:২৮:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫

একটা দেশ যখন স্বপ্ন হারায়, তখন সে আর রাষ্ট্র থাকে না—সে হয়ে ওঠে বন্দুকধারীদের প্রাইভেট কোম্পানি। আজকের বাংলাদেশে আমরা যা দেখছি, তা কোনো রাজনৈতিক বিপর্যয় নয়—এটা একটি পরিকল্পিত রাষ্ট্রদ্রোহ।

যে রাষ্ট্রে বিরোধিতা মানেই রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রশ্ন মানেই দেশদ্রোহ, আর নীরবতাই যদি নিরাপদ ভাষা হয়—সেই রাষ্ট্র আসলে ক্ষমতার একনায়ক খেলা ছাড়া আর কিছু না।

বাস্তবতা: গণতন্ত্রের নামে গণঅবজ্ঞা

২০১৪ এবং ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে “ভোটবিহীন নির্বাচন” হিসেবে। নির্বাচন কমিশন ছিল একতরফা, প্রশাসন ছিল দলীয় মঞ্চের চামচা, আর মিডিয়া ছিল সরকারের অজুহাত প্রচারের মেশিন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে শত শত কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি বিরোধী প্রার্থীর পক্ষে।
৩৬% ভোটারের নামে ভোট পড়ে যায় আগের রাতেই।
বিচার বিভাগ এখন দলীয় ব্যাজ গলায় ঝুলিয়ে রাখে—অধিকার আদায়ের মামলা মানেই “দেশবিরোধী শক্তির কাজ”।

সরকারের অদৃশ্য পরিকল্পনা: “দেশ নয়, ক্ষমতা বাঁচাও”

সরকারের মূল ফোকাস এখন আর দেশের উন্নয়ন নয়, বরং—

ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার প্রজেক্ট

১. জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ডিজিটাল সুরক্ষা আইন দিয়ে জনগণের গতিবিধি নজরে রাখা
২. সাইবার ট্রাইব্যুনাল ব্যবহার করে সমালোচকদের ভয় দেখানো
৩. নতুন পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস বিকৃতি করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধ করে তোলা

তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং বিভ্রান্তি কৌশল

১. গণমাধ্যমে একতরফা সংবাদ পরিবেশন
২. সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বট আর্মি’ দিয়ে সরকারের পক্ষে প্রচারণা
৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয় রাজনীতির অনুপ্রবেশ—যাতে ছাত্ররা প্রশ্ন করতে ভুলে যায়

অর্থনৈতিক দখলদারিত্ব

১. মেগা প্রজেক্টে দুর্নীতির নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ
২. IMF-ADB-World Bank থেকে ঋণ নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেনার দাসে পরিণত করা
৩. সরকারি ব্যাংকগুলোর টাকা বেসরকারি ব্যবসায়ীদের ‘লুট’ হিসেবে দিয়ে দেওয়া

রাষ্ট্র যখন দানবের মঞ্চ

এই রাষ্ট্রে আজ গুম হয় শিক্ষক, খুন হয় সাংবাদিক, ধর্ষণ হয় বিচারাধীন কিশোরী, আর প্রতিবাদী কণ্ঠগুলোর নামে চলে সন্ত্রাসবাদী মামলা। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে আজ আমরা অধিকার চাই না, শুধু নিরাপত্তা চাই—এই চাওয়াটাই আমাদের হেরে যাওয়া। “স্বাধীনতা মানে ভোটের অধিকার, আজ আমরা কাগজে ভোট দিই, কফিনে গলা ফাটাই।”

আগামী দিনের ভয়ঙ্কর চিত্র

  • বিরোধী দলের অস্তিত্ব থাকবে কেবল বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বোকা বানাতে
  • শিক্ষিত তরুণরা রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে
  • কর্মসংস্থানের নামে যুবকদের বাধ্য করা হবে সরকারপন্থী হবার জন্য
  • সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ—সব থাকবে “দলীয় বিশ্বাস” যাচাই করে নিয়োগকৃত

এটা গণতন্ত্রের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নয়, এটা জনগণের সর্বনাশের চূড়ান্ত অধ্যায়।

আমার শেষ কথা

আমরা যদি এখনো চুপ থাকি, তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম শুধু আমাদের নয়, আমাদের কাপুরুষতা কেই অভিশাপ দেবে। আজ দরকার সাংস্কৃতিক বিপ্লব, দরকার সত্যের রাজনৈতিক ঘুষি—না হলে একদিন এই বাংলাদেশের মানচিত্রে থাকবে শুধু একটি পরিবারের ছবি, আর একদল মূক মানুষ।

এগুলো কখনো প্রকাশ করতে দেওয়া্ হয়নি, রেখে দেওয়া হয়েছে রাস্ট্র নামক দালালির পদতলে ।