
ঢাকার সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নে সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় বিতর্কিত ঢাকা বোর্ড ক্লাব লিমিটেড ও আশপাশের এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। কারণ কিছু জমি বৈধভাবে কেনার পর ক্লাব কর্তৃপক্ষ সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিও দখল করে বিশাল পরিসরের এই অভিজাত ক্লাব গড়ে তোলে।
বুধবার ২১ মে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে ঢাকা বোর্ড ক্লাব লিমিটেড এর এলাকায় দুপুর দিকে বেশ কয়েকটি বুলডোজার ও এস্কেভেটর নিয়ে এ অভিযান চালানো হয়। ঢাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে বড় কাকর মৌজায় বাপাউবোর অধিগ্রহণ করা জমিতে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে ওই বাঁধের সংলগ্ন পৌনে ১১ একর সরকারি জমি ঢাকা বোর্ড ক্লাব লিমিটেড অবৈধভাবে দখল করে নানা স্থাপনা গড়ে তোলে।
এম এল সৈকত আরও জানান, গত ২৪ জানুয়ারি বোর্ড ক্লাব কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময়সীমা দিয়ে নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল, অবৈধভাবে সীমানা প্রাচীরের ভেতরে নেওয়া সরকারি জমি নিজ উদ্যোগে ছেড়ে দিতে। তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ কোনো সাড়া দেয়নি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ক্লাবের সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ কোনো পদক্ষেপ নেননি, ফলে বাধ্য হয়েই সরকারি জমি পুনরুদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
ঢাকা বোর্ড ক্লাব এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, ক্লাব কর্তৃপক্ষ। সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করলে তারা বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জানা যায়, ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বোর্ড ক্লাব। একুশ শতকের আধুনিক প্রযুক্তিসহ অভিজাত বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্লাবটি রুবেল আজিজ, শওকত আজিজ রাসেল, বখতিয়ার আহমেদ, শাহেদুল ইসলাম, জহির আহমেদ, আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ও নাসির উদ্দিন আহমেদ যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু জমি বৈধভাবে কেনার পর ক্লাব কর্তৃপক্ষ সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিও দখল করে বিশাল পরিসরের এই অভিজাত ঢাকা বোর্ড ক্লাব গড়ে তোলে। তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বে থাকেন। মহাপরিদর্শক বেনজির আহমেদের ক্ষমতার কারণে অনিয়ম ও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি।
ঢাকা বোর্ড ক্লাবের বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় দুই হাজার, আর সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বেনজীর আহমেদ। ২০২১ সালের ৯ জুন রাতভর আলোচনায় আসে ক্লাবটি, যখন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরী মণি অভিযোগ করেন, ক্লাবটির ভেতরে তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়।

আবু সাঈদ তুষার 
























