, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
নাগরিক শিরোনাম :
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ঢাকাস্থ অফিসে কম্পিউটার অপারেটর ও পিওন আবশ্যক। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন : 09649-230220 ও মুঠোফোন : 01915-708187

নীলফামারীতে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

নীলফামারীতে অরক্ষিত রেল ক্রসিং পারাপারের সময় চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের জ্ঞানদাশ কানইকাটা তেঁতুলতলা রেল ঘুমটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- চওড়া বড়গাছা আরজিদলুয়া এলাকার কাল্টু রায়ের ছেলে সন্তোষ রায় (৪০) এবং সেন্টু রায়ের ছেলে ভবেস রায় (২৮)। তারা দুজনেই একে-অপরের কাকাতো ভাই।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ‘সকালে মোটরসাইকেলযোগে দুই ভাই মিলে কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এখানে অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। রেলঘুমটিটির দুই পাশে বাজার বসার কারণে রেললাইন পার হওয়ার সময় স্পষ্ট দেখা যায় না। এমন পরিস্থিতিতে চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা ‘চিলাহাটি এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি দ্রুতগতিতে তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা দুইজন মারা যান।’
নিহত সন্তোষ রায়ের বড় ভাই শিবু রায় বলেন, ‘আমার কাকাতো ভাইয়ের সঙ্গে সন্তোষ কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল। এরপর এখানে এসে কী ঘটলো, কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। ওরা যে মোটরসাইকেলটিতে ছিল, সেটির ইঞ্জিন ট্রেনের সাথে আটকে গিয়ে প্রায় নীলফামারী স্টেশন পর্যন্ত চলে যায়।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার পরিদর্শক (ওসি) মাহমুদ উন নবী বলেন, ‘আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
এদিকে অরক্ষিত রেলগেটই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তারা দাবি জানান, ‘জ্ঞানদাস কানাইকাটা এলাকার এই রেলঘুমটিতে কোনো গেটম্যান নেই, নেই কোনো সিগন্যাল ব্যবস্থা। ফলে পথচারী ও যানবাহন চালকেরা ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার হন। রেললাইনের দুই পাশে বাজার বসার কারণে লাইন স্পষ্ট দেখা যায় না। ফলে ট্রেন আসছে কি না, তা বুঝে ওঠা কঠিন। এই রেলগেটে জরুরি ভিত্তিতে গেটম্যান নিয়োগ এবং ট্রেন আসার আগেই সতর্কবার্তা দেওয়ার মতো ব্যবস্থা না থাকলে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে।’
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী মুজাম্মেল হক বলেন, ‘এই রেলঘুমটিতে প্রায়ই বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করি। আমরা বহুবার গেটম্যান নিয়োগ ও সিগন্যাল ব্যবস্থা বসানোর দাবি জানিয়েছি, কিন্তু কেউ শোনে না। আজ দুজন তরতাজা প্রাণ ঝরে গেল, কাল হয়তো আরও কেউ যাবে। তাই এখানে যত দ্রুত সম্ভব জরুরি ভিত্তিতে গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া।’
আরও খবর :
জনপ্রিয়

জলবায়ু ন্যায্যতা, কমিউনিটি নেটওয়ার্কিং প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা

নীলফামারীতে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

সর্বশেষ : ০৭:৫৯:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
নীলফামারীতে অরক্ষিত রেল ক্রসিং পারাপারের সময় চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের জ্ঞানদাশ কানইকাটা তেঁতুলতলা রেল ঘুমটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- চওড়া বড়গাছা আরজিদলুয়া এলাকার কাল্টু রায়ের ছেলে সন্তোষ রায় (৪০) এবং সেন্টু রায়ের ছেলে ভবেস রায় (২৮)। তারা দুজনেই একে-অপরের কাকাতো ভাই।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ‘সকালে মোটরসাইকেলযোগে দুই ভাই মিলে কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এখানে অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। রেলঘুমটিটির দুই পাশে বাজার বসার কারণে রেললাইন পার হওয়ার সময় স্পষ্ট দেখা যায় না। এমন পরিস্থিতিতে চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা ‘চিলাহাটি এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি দ্রুতগতিতে তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা দুইজন মারা যান।’
নিহত সন্তোষ রায়ের বড় ভাই শিবু রায় বলেন, ‘আমার কাকাতো ভাইয়ের সঙ্গে সন্তোষ কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল। এরপর এখানে এসে কী ঘটলো, কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। ওরা যে মোটরসাইকেলটিতে ছিল, সেটির ইঞ্জিন ট্রেনের সাথে আটকে গিয়ে প্রায় নীলফামারী স্টেশন পর্যন্ত চলে যায়।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার পরিদর্শক (ওসি) মাহমুদ উন নবী বলেন, ‘আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
এদিকে অরক্ষিত রেলগেটই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তারা দাবি জানান, ‘জ্ঞানদাস কানাইকাটা এলাকার এই রেলঘুমটিতে কোনো গেটম্যান নেই, নেই কোনো সিগন্যাল ব্যবস্থা। ফলে পথচারী ও যানবাহন চালকেরা ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার হন। রেললাইনের দুই পাশে বাজার বসার কারণে লাইন স্পষ্ট দেখা যায় না। ফলে ট্রেন আসছে কি না, তা বুঝে ওঠা কঠিন। এই রেলগেটে জরুরি ভিত্তিতে গেটম্যান নিয়োগ এবং ট্রেন আসার আগেই সতর্কবার্তা দেওয়ার মতো ব্যবস্থা না থাকলে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে।’
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী মুজাম্মেল হক বলেন, ‘এই রেলঘুমটিতে প্রায়ই বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করি। আমরা বহুবার গেটম্যান নিয়োগ ও সিগন্যাল ব্যবস্থা বসানোর দাবি জানিয়েছি, কিন্তু কেউ শোনে না। আজ দুজন তরতাজা প্রাণ ঝরে গেল, কাল হয়তো আরও কেউ যাবে। তাই এখানে যত দ্রুত সম্ভব জরুরি ভিত্তিতে গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া।’