, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
নাগরিক শিরোনাম :
কাউখালী সরকারি গান্ডতা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন পিরোজপুরে বিএনপির আনন্দ মিছিল ও পথসভা উলিপুরে বাইপাস সড়ক বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন লামায় ২ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, মাদক ব্যবসায় জড়ানোর দাবি অস্বীকার ও হয়রানির অভিযোগ নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে আদমদীঘিতে ছাত্রলীগ নেতা সাকিব গ্রেফতার  লালপুরে নিরাপদ খাদ্য চাই নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নিষিদ্ধ আ’লীগের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল কালীগঞ্জে মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী আলোচনা সভা – ২০২৬ কেবল আয়ের অভাব নয়, বরং সামর্থ্যের অভাবই দারিদ্র্যের মূল কারণ: ড. অমর্ত্য সেন  রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম লাল অসুস্থ হয়ে মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছেন
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ঢাকাস্থ অফিসে কম্পিউটার অপারেটর ও পিওন আবশ্যক। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন : 09649-230220 ও মুঠোফোন : 01915-708187
আল জাজিরার প্রতিবেদন

কাশ্মীর ইস্যুতে ‘ইসরাইলি মডেল’ অনুসরণ করবে ভারত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের বর্তমান নরেন্দ্র মোদি সরকার এবং ইসরাইলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা কেবল অস্ত্র আমদানিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ভারতের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় ‘ইসরাইলি মডেল’ অনুসরণের বিষয়টি জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীর নীতি, নজরদারি প্রযুক্তি এবং ‘বুলডোজার বিচার’—এই তিনটি ক্ষেত্রে ভারতের পদক্ষেপের সাথে ইসরাইলের ফিলিস্তিন নীতির ব্যাপক সাদৃশ্য পাওয়া যাচ্ছে।

২০১৯ সালে নিউইয়র্কে ভারতের তৎকালীন কনসাল জেনারেল সন্দীপ চক্রবর্তী কাশ্মীর ইস্যুতে ‘ইসরাইলি মডেল’ গ্রহণের যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে আরও সত্য হয়ে ধরা দিচ্ছে। ফিলিস্তিনের অধিকৃত অঞ্চলে ইসরাইলি বসতি স্থাপনের আদলে কাশ্মীরেও জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের যে চেষ্টা চলছে, তাকে অনেকে ইসরাইলের ‘সেটলার কলোনিয়ালিজম’ বা বসতি স্থাপনমূলক উপনিবেশবাদের ছায়া হিসেবে দেখছেন।

বিজেপি সরকারের ‘হিন্দুত্ব’ মতাদর্শের সাথে ইসরাইলের ‘জায়নবাদ’-এর একটি আদর্শিক মিল রয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর ‘স্বাভাবিক জন্মভূমি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বর্তমানে অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো ‘বুলডোজার নীতি’। কোনো অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি বা দোকান আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই পদ্ধতিটি মূলত অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের প্রয়োগ করা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার একটি সংস্করণ। যদিও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া এ ধরনের উচ্ছেদে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে উত্তরপ্রদেশসহ বেশ কিছু রাজ্যে এর প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া ইসরাইলি স্পাইওয়্যার ‘পেগাসাস’ ব্যবহার করে সাংবাদিক ও বিরোধীদের ওপর নজরদারির অভিযোগ ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোতে ইসরাইলি দমনমূলক কৌশলের প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করেছে।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত বর্তমানে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রেতা। পাশাপাশি গাজা যুদ্ধের সময় ভারতকে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ করতেও দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত এখন কাশ্মীর বা অন্যান্য উত্তপ্ত অঞ্চলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তাকে ইসরাইলি দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শুরু করেছে, যেখানে নিজ দেশের নাগরিকদের অনেক ক্ষেত্রে ‘বাহ্যিক হুমকি’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মোদি সরকারের এই ‘ইসরাইল প্রেম’ ভারতের দীর্ঘদিনের ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানকে যেমন পেছনে ঠেলে দিচ্ছে, তেমনি অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় একটি কঠোর সামরিক ও কর্তৃত্ববাদী কাঠামো তৈরি করছে।

সূত্র: আল জাজিরা

জনপ্রিয়

কাউখালী সরকারি গান্ডতা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন

আল জাজিরার প্রতিবেদন

কাশ্মীর ইস্যুতে ‘ইসরাইলি মডেল’ অনুসরণ করবে ভারত?

সর্বশেষ : ০৩:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের বর্তমান নরেন্দ্র মোদি সরকার এবং ইসরাইলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা কেবল অস্ত্র আমদানিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ভারতের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় ‘ইসরাইলি মডেল’ অনুসরণের বিষয়টি জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীর নীতি, নজরদারি প্রযুক্তি এবং ‘বুলডোজার বিচার’—এই তিনটি ক্ষেত্রে ভারতের পদক্ষেপের সাথে ইসরাইলের ফিলিস্তিন নীতির ব্যাপক সাদৃশ্য পাওয়া যাচ্ছে।

২০১৯ সালে নিউইয়র্কে ভারতের তৎকালীন কনসাল জেনারেল সন্দীপ চক্রবর্তী কাশ্মীর ইস্যুতে ‘ইসরাইলি মডেল’ গ্রহণের যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে আরও সত্য হয়ে ধরা দিচ্ছে। ফিলিস্তিনের অধিকৃত অঞ্চলে ইসরাইলি বসতি স্থাপনের আদলে কাশ্মীরেও জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের যে চেষ্টা চলছে, তাকে অনেকে ইসরাইলের ‘সেটলার কলোনিয়ালিজম’ বা বসতি স্থাপনমূলক উপনিবেশবাদের ছায়া হিসেবে দেখছেন।

বিজেপি সরকারের ‘হিন্দুত্ব’ মতাদর্শের সাথে ইসরাইলের ‘জায়নবাদ’-এর একটি আদর্শিক মিল রয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর ‘স্বাভাবিক জন্মভূমি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বর্তমানে অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো ‘বুলডোজার নীতি’। কোনো অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি বা দোকান আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই পদ্ধতিটি মূলত অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের প্রয়োগ করা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার একটি সংস্করণ। যদিও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া এ ধরনের উচ্ছেদে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে উত্তরপ্রদেশসহ বেশ কিছু রাজ্যে এর প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া ইসরাইলি স্পাইওয়্যার ‘পেগাসাস’ ব্যবহার করে সাংবাদিক ও বিরোধীদের ওপর নজরদারির অভিযোগ ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোতে ইসরাইলি দমনমূলক কৌশলের প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করেছে।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত বর্তমানে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রেতা। পাশাপাশি গাজা যুদ্ধের সময় ভারতকে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ করতেও দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত এখন কাশ্মীর বা অন্যান্য উত্তপ্ত অঞ্চলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তাকে ইসরাইলি দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শুরু করেছে, যেখানে নিজ দেশের নাগরিকদের অনেক ক্ষেত্রে ‘বাহ্যিক হুমকি’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মোদি সরকারের এই ‘ইসরাইল প্রেম’ ভারতের দীর্ঘদিনের ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানকে যেমন পেছনে ঠেলে দিচ্ছে, তেমনি অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় একটি কঠোর সামরিক ও কর্তৃত্ববাদী কাঠামো তৈরি করছে।

সূত্র: আল জাজিরা