, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
নাগরিক শিরোনাম :
আল্লাহ তুমি আমাদের এই ব্রিজটি করার ব্যবস্থা করে দাও গোয়ালন্দের ছোট ভাকলা ইউনিয়নে বাড়িতে কাফনের কাপড় রেখে মেরে ফেলার হুমকি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পরিবার  পিরোজপুরের উন্নয়নে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানালেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আলমগীর হোসেন হালুয়াঘাটে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ জনের ১ বছর করে  কারাদণ্ড সিরাজগঞ্জে ডা. বাকি মির্জা হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন শিশুর শ্লীলতাহানির অভিযোগ, রেস্টুরেন্ট ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা আমে ভালো দাম পেয়ে সন্তুষ্ট চাষি-ব্যবসায়ীরা ঢুলিভিটায় সড়ক ও জনপথের নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানে হামলা সুগন্ধা নদীতে সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা জোরালো
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ঢাকাস্থ অফিসে কম্পিউটার অপারেটর ও পিওন আবশ্যক। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন : 09649-230220 ও মুঠোফোন : 01915-708187

কবিতা : একটি প্রতিবাদী কন্ঠ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • সর্বশেষ : ০৩:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৫
  • ১০১ বার পঠিত

-মহসিন আলম মুহিন 

গাছে অনেক পাতাই ধরে আবার
অনেক পাতা অকালে যায় ঝরে!
কেউ হয়তো রাখে না খবর মায়ায় পড়ে,
কিন্তু ইতিহাসের পাতা তাকে রাখে যতন করে।।
ভারতের কেরালা রাজ্যের  প্রতিবাদী এক নারী,
তারই কথা লিখতে নিয়ে কাগজ কলম ধরি!
কেরালার রাজা ছিলেন অত্যাচারী-
উঁচুজাতের কদর করতেন নীচুদেরকে খবরদারী! পুরুষের গোঁফ আর নীচু জাতের নারী,
তাদের থেকে নিতেন স্তন্যের আবগারি-(শুল্ক)।।
দুঃখে মনটা কেঁদে উঠে গা শির শির করে,
লিখতে গিয়ে নয়ন থেকে অশ্রু ঝরে পরে!
উচ্চ বর্ণের নারী ছাড়া আর যত আছে নারী,
তাদের কে দিতে হবে স্তন্যের শুল্ক রকমারী!
অনাবৃত্তরা পড়বে না রাজা হুকুম করেন জারী!
দিতে হবে কর যদি স্তন ঢাকা থাকে কাপড়ে কিংবা শাড়ি।।
এ কেমন অন্যায় কেমন জঘন্য অত্যাচার,
কাজটা করে গেছে-কেরালার “রাজা” ত্রিভাঙ্কর!
যার স্তন যত বড় তাকে সেই হারে দিতে হবে কর,
অন্যথায় রাজ রোষানলে পড়বে হবে তার বিচার।।
অত্যাচারের ঘৃণ্য এ রূপ দেখে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে,
আমার আমানত নিয়ে ওরা কেন তামাশা করে!
সোচ্চার হয়ে উঠে কেরালার এক অগ্নিকন্যা-
নাম তার ছিলো সাহসী নাঙ্গেলী বীরঙ্গনা।।
খোলা রাখলে কর দিতে হবে না একটি কানাকড়ি, আবৃত্ত রাখলে দিতে হবে স্তনের আকারে হিসাব করি! আমার শরীর আমার ইজ্জত রাখবো আমি ঢেকে,
তা নিয়ে রাজা কেন শুল্ক হাকাবেন বেঁকে।।
না-না-দিব না করের টাকা অন্যায় এ আবদার!
দেখি রাজা আর কর্মকর্তারা কি করবি কর!
রাজার করের লোকেরা ঘোরে বারে বারে,
রাজ হুকুম লয়ে শুল্ক নিতে আসে, নাঙ্গেলীর দ্বারে।।
নাঙ্গেলীর আবৃত্ত স্তন্যের অনেক শুল্ক তারা কষে,
অনাদায়ে তাই নাঙ্গেলীকে বার বার তারা দোষে!
তাগাদায় বিরক্ত করে তোলে নাঙ্গেলীর মন প্রাণ!
অবশেষে নাঙ্গেলী বলেন তোমরা উঠোনেতে দাঁড়ান,
নাঙ্গেলী আরাধনা শেষ করে ভিতর বাড়ী যান,
ভাবে আজকে শোধ করে দিব করের টাকার পরিমাণ।।
অন্তঃপুরে প্রবেশ করে নাঙ্গেলী,
অন্যায় দাবীর কাছে নিজেরে দেয় বলী!
দাড়ালো ছুড়িতে স্তন দুটো বুক থেকে করে খালি,
দুহাতে তুলে বাহিরে আনে কাটা স্তনের ফালি!
কলা পাতায় করে রক্ত মাখা দুটি স্তন,
এনে দেয় কর কর্মকর্তাদেরে করের প্রতিদান!
নারী নির্যাতনের এ এক নতুন অধ্যায় অভিধান,
রক্তক্ষরণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে নাঙ্গেলীর তাজা প্রাণ।।
নাঙ্গেলীর চিতার আগুনে সে একা নাহি পোড়ে,
ঝাঁপিয়ে পরে নাঙ্গেলীর স্বামী সহমরণের পথ ধরে!
এমন ত্যাগে শোষকের প্রাণও কেঁদে উঠে বারে বারে, নাঙ্গেলীর আত্মত্যাগে এই কুপ্রথা রহিত হয় চিরতরে।।
আরও খবর :
জনপ্রিয়

আল্লাহ তুমি আমাদের এই ব্রিজটি করার ব্যবস্থা করে দাও

কবিতা : একটি প্রতিবাদী কন্ঠ

সর্বশেষ : ০৩:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৫

-মহসিন আলম মুহিন 

গাছে অনেক পাতাই ধরে আবার
অনেক পাতা অকালে যায় ঝরে!
কেউ হয়তো রাখে না খবর মায়ায় পড়ে,
কিন্তু ইতিহাসের পাতা তাকে রাখে যতন করে।।
ভারতের কেরালা রাজ্যের  প্রতিবাদী এক নারী,
তারই কথা লিখতে নিয়ে কাগজ কলম ধরি!
কেরালার রাজা ছিলেন অত্যাচারী-
উঁচুজাতের কদর করতেন নীচুদেরকে খবরদারী! পুরুষের গোঁফ আর নীচু জাতের নারী,
তাদের থেকে নিতেন স্তন্যের আবগারি-(শুল্ক)।।
দুঃখে মনটা কেঁদে উঠে গা শির শির করে,
লিখতে গিয়ে নয়ন থেকে অশ্রু ঝরে পরে!
উচ্চ বর্ণের নারী ছাড়া আর যত আছে নারী,
তাদের কে দিতে হবে স্তন্যের শুল্ক রকমারী!
অনাবৃত্তরা পড়বে না রাজা হুকুম করেন জারী!
দিতে হবে কর যদি স্তন ঢাকা থাকে কাপড়ে কিংবা শাড়ি।।
এ কেমন অন্যায় কেমন জঘন্য অত্যাচার,
কাজটা করে গেছে-কেরালার “রাজা” ত্রিভাঙ্কর!
যার স্তন যত বড় তাকে সেই হারে দিতে হবে কর,
অন্যথায় রাজ রোষানলে পড়বে হবে তার বিচার।।
অত্যাচারের ঘৃণ্য এ রূপ দেখে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে,
আমার আমানত নিয়ে ওরা কেন তামাশা করে!
সোচ্চার হয়ে উঠে কেরালার এক অগ্নিকন্যা-
নাম তার ছিলো সাহসী নাঙ্গেলী বীরঙ্গনা।।
খোলা রাখলে কর দিতে হবে না একটি কানাকড়ি, আবৃত্ত রাখলে দিতে হবে স্তনের আকারে হিসাব করি! আমার শরীর আমার ইজ্জত রাখবো আমি ঢেকে,
তা নিয়ে রাজা কেন শুল্ক হাকাবেন বেঁকে।।
না-না-দিব না করের টাকা অন্যায় এ আবদার!
দেখি রাজা আর কর্মকর্তারা কি করবি কর!
রাজার করের লোকেরা ঘোরে বারে বারে,
রাজ হুকুম লয়ে শুল্ক নিতে আসে, নাঙ্গেলীর দ্বারে।।
নাঙ্গেলীর আবৃত্ত স্তন্যের অনেক শুল্ক তারা কষে,
অনাদায়ে তাই নাঙ্গেলীকে বার বার তারা দোষে!
তাগাদায় বিরক্ত করে তোলে নাঙ্গেলীর মন প্রাণ!
অবশেষে নাঙ্গেলী বলেন তোমরা উঠোনেতে দাঁড়ান,
নাঙ্গেলী আরাধনা শেষ করে ভিতর বাড়ী যান,
ভাবে আজকে শোধ করে দিব করের টাকার পরিমাণ।।
অন্তঃপুরে প্রবেশ করে নাঙ্গেলী,
অন্যায় দাবীর কাছে নিজেরে দেয় বলী!
দাড়ালো ছুড়িতে স্তন দুটো বুক থেকে করে খালি,
দুহাতে তুলে বাহিরে আনে কাটা স্তনের ফালি!
কলা পাতায় করে রক্ত মাখা দুটি স্তন,
এনে দেয় কর কর্মকর্তাদেরে করের প্রতিদান!
নারী নির্যাতনের এ এক নতুন অধ্যায় অভিধান,
রক্তক্ষরণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে নাঙ্গেলীর তাজা প্রাণ।।
নাঙ্গেলীর চিতার আগুনে সে একা নাহি পোড়ে,
ঝাঁপিয়ে পরে নাঙ্গেলীর স্বামী সহমরণের পথ ধরে!
এমন ত্যাগে শোষকের প্রাণও কেঁদে উঠে বারে বারে, নাঙ্গেলীর আত্মত্যাগে এই কুপ্রথা রহিত হয় চিরতরে।।