, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
নাগরিক শিরোনাম :
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ঢাকাস্থ অফিসে কম্পিউটার অপারেটর ও পিওন আবশ্যক। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন : 09649-230220 ও মুঠোফোন : 01915-708187

পাঁচ মাস আটক থেকে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন দেশে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • সর্বশেষ : ০৩:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৭৩ বার পঠিত

আমতলী বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে সাইদুল গাজী ও মামুন হাওলাদার দুই ভাই কে দালাল রুবেল হাওলাদার ও তার সদস্যরা সৌদি আরবে পাঁচ মাস আটকে দের লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে জানাগেছে, উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম আমতলী গ্রামের আব্দুল হাই গাজীর ছেলে সাইদুল গাজী ও তার ফুফাতো ভাই মামুন হাওলাদারকে দালাল রুবেল হাওলাদার আট লক্ষ টাকা চুক্তিতে কোম্পানীর ভিসায় সৌদি আরবে পাঠান।

২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল জেদ্দা বিমান বন্দরে নামেন দুই ভাই। এরপর  দালাল চক্রের সদস্য ফুয়াদ তাদের একটি বদ্ধ ঘরে আটকে রাখেন। ওইস্থানে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় এমন অভিযোগ সাইদুল গাজীর। চার দিন পরে দালাল চক্রের আরেক সদস্য মনির এসে তাদের জেদ্দায় মরুভুমির মধ্যে একটি বন্ধ মুরগীর ফার্মে নিয়ে যায়। ওই স্থানে তাদের ৫ মাস ১০ দিন আটকে রাখে তারা। দালাল রুবেলের নির্দেশে চক্রের সদস্যরা তাদের ওপর অমানষিক নির্যাতন চালায় এবং দের লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করেন। নির্যাতন সইনে না পেরে সাইদুল ও মামুন দুই ভাই  পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে। কিন্তু দালাল চক্রের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। সাইদুল অভিযোগ করেন দালাল রুবেলের নির্দেশে মনির তাদের আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে দের লক্ষ টাকা দাবী করেন। নিরুপায় হয়ে লক্ষ টাকা দেয় সাইদুলের পরিবার।

এরপর দালাল রুবেল মেয়াদ উত্তীর্ণ আকামা দিয়ে দুই ভাইকে ছেড়ে দেয়। ওই আকামা নিয়ে পালিয়ে বেড়ায় তারা। এ ঘটনা নিয়ে দালাল রুবেলের সঙ্গে সাইদুলের কথা কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষুব্দ হয় রুবেল। পরে দালাল রুবেল ও তার সহযোগীরা গত বছর ১৪ ডিসেম্বর সৌদি পুলিশে সাইদুলকে ধরিয়ে দেয়। ১২ দিন কারাবাস শেষে গত বছর ২৭ ডিসেম্বর সৌদি পুলিশ তাকে মুক্তি দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। অপর দিকে সাইদুলের ফুফাতো ভাই মামুন হাওলাদার সৌদি আরবে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পরিবারের কাছে তার কোন হদিস নেই এমন অভিযোগ মামুনের বাবা মজিবুর রহমান হাওলাদারের। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাইদুল গাজী ও দালাল রুবেল হাওলাদারের মধ্যে এ নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে দালাল রুবেল হাওলাদার সাইদুল গাজীর বিরুদ্ধে পাঁচ লক্ষ টাকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে আমতলী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

সৌদি আরবে নির্যাতনের স্বীকার সাইদুল গাজী কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, আমার ও আমার ভাইয়ের জীবনটাকে  দালাল রুবেল শেষ করে দিয়েছি। আমিতো জেল খেটে দেশে ফিরেছি কিন্তু আমার ভাই কোথায় আছে তা আল্লাই জানে? তিনি আরো বলেন, দালাল রুবেল হাওলাদার কোম্পানীর ভিসা দেয়ার কথা বলে আমাকে ও আমার ফুফাতো ভাইকে সৌদি আরবে পাঠান। সৌদি নিয়ে দুই দালালের কাছে আমাদের বিক্রি করে দেয়। দালাল চক্র আমাদের দুই ভাইকে ৫ মাস ১০ দিন আটকে রেখে নির্যাতন শেষে দের লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে। পরে আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দালাল রুবেল আমাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। এখন আবার আমাকে হয়নারী করতে থানায় পাঁচ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। আমি এ ঘটনায় দালাল রুবেল হাওলাদার ও তার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবী করছি।

প্রত্যক্ষদর্শী ইউসুচ মল্লিক, নাশির উদ্দিন হাওলাদার, সুলতান গাজী ও আব্দুল হক মৃধা বলেন, দালাল রুবেল হাওলাদার আট লক্ষ টাকা চুক্তিতে সাইদুল গাজী ও তার ফুফাতো ভাই মামুনকে সৌদি আরব পাঠিয়েছে। ওই স্থানে দালাল রুবেলের সদস্যরা তাদের পাঁচ মাস আটকে রখে নির্যাতন করেছে। এ ঘটনার নিয়ে রুবেল ও সাইদুলের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এখন শুনতে পাচ্ছি রুবেল থানায় সাইদুল গাজীর বিরুদ্ধে টাকা ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।

দালাল রুবেল হাওলাদার দুই ভাইকে সৌদি আরবে পাঠানোর কথা স্বীকার  এবং নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে বলেন, সাইদুল গাজী লোকজন নিয়ে আমাকে মারধর শেষে টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। আমতলী থানার ওসি মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, সৌদি আরবে নির্যাতন ও মুক্তিপণের অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, মারধরের একটি অভিযোগ পেয়েছিলাম ওই বিষয়টি মিমাংশা হয়েছে।

 

আরও খবর :
জনপ্রিয়

জলবায়ু ন্যায্যতা, কমিউনিটি নেটওয়ার্কিং প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা

পাঁচ মাস আটক থেকে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন দেশে

সর্বশেষ : ০৩:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আমতলী বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে সাইদুল গাজী ও মামুন হাওলাদার দুই ভাই কে দালাল রুবেল হাওলাদার ও তার সদস্যরা সৌদি আরবে পাঁচ মাস আটকে দের লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে জানাগেছে, উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম আমতলী গ্রামের আব্দুল হাই গাজীর ছেলে সাইদুল গাজী ও তার ফুফাতো ভাই মামুন হাওলাদারকে দালাল রুবেল হাওলাদার আট লক্ষ টাকা চুক্তিতে কোম্পানীর ভিসায় সৌদি আরবে পাঠান।

২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল জেদ্দা বিমান বন্দরে নামেন দুই ভাই। এরপর  দালাল চক্রের সদস্য ফুয়াদ তাদের একটি বদ্ধ ঘরে আটকে রাখেন। ওইস্থানে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় এমন অভিযোগ সাইদুল গাজীর। চার দিন পরে দালাল চক্রের আরেক সদস্য মনির এসে তাদের জেদ্দায় মরুভুমির মধ্যে একটি বন্ধ মুরগীর ফার্মে নিয়ে যায়। ওই স্থানে তাদের ৫ মাস ১০ দিন আটকে রাখে তারা। দালাল রুবেলের নির্দেশে চক্রের সদস্যরা তাদের ওপর অমানষিক নির্যাতন চালায় এবং দের লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করেন। নির্যাতন সইনে না পেরে সাইদুল ও মামুন দুই ভাই  পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে। কিন্তু দালাল চক্রের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। সাইদুল অভিযোগ করেন দালাল রুবেলের নির্দেশে মনির তাদের আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে দের লক্ষ টাকা দাবী করেন। নিরুপায় হয়ে লক্ষ টাকা দেয় সাইদুলের পরিবার।

এরপর দালাল রুবেল মেয়াদ উত্তীর্ণ আকামা দিয়ে দুই ভাইকে ছেড়ে দেয়। ওই আকামা নিয়ে পালিয়ে বেড়ায় তারা। এ ঘটনা নিয়ে দালাল রুবেলের সঙ্গে সাইদুলের কথা কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষুব্দ হয় রুবেল। পরে দালাল রুবেল ও তার সহযোগীরা গত বছর ১৪ ডিসেম্বর সৌদি পুলিশে সাইদুলকে ধরিয়ে দেয়। ১২ দিন কারাবাস শেষে গত বছর ২৭ ডিসেম্বর সৌদি পুলিশ তাকে মুক্তি দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। অপর দিকে সাইদুলের ফুফাতো ভাই মামুন হাওলাদার সৌদি আরবে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পরিবারের কাছে তার কোন হদিস নেই এমন অভিযোগ মামুনের বাবা মজিবুর রহমান হাওলাদারের। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাইদুল গাজী ও দালাল রুবেল হাওলাদারের মধ্যে এ নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে দালাল রুবেল হাওলাদার সাইদুল গাজীর বিরুদ্ধে পাঁচ লক্ষ টাকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে আমতলী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

সৌদি আরবে নির্যাতনের স্বীকার সাইদুল গাজী কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, আমার ও আমার ভাইয়ের জীবনটাকে  দালাল রুবেল শেষ করে দিয়েছি। আমিতো জেল খেটে দেশে ফিরেছি কিন্তু আমার ভাই কোথায় আছে তা আল্লাই জানে? তিনি আরো বলেন, দালাল রুবেল হাওলাদার কোম্পানীর ভিসা দেয়ার কথা বলে আমাকে ও আমার ফুফাতো ভাইকে সৌদি আরবে পাঠান। সৌদি নিয়ে দুই দালালের কাছে আমাদের বিক্রি করে দেয়। দালাল চক্র আমাদের দুই ভাইকে ৫ মাস ১০ দিন আটকে রেখে নির্যাতন শেষে দের লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে। পরে আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দালাল রুবেল আমাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। এখন আবার আমাকে হয়নারী করতে থানায় পাঁচ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। আমি এ ঘটনায় দালাল রুবেল হাওলাদার ও তার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবী করছি।

প্রত্যক্ষদর্শী ইউসুচ মল্লিক, নাশির উদ্দিন হাওলাদার, সুলতান গাজী ও আব্দুল হক মৃধা বলেন, দালাল রুবেল হাওলাদার আট লক্ষ টাকা চুক্তিতে সাইদুল গাজী ও তার ফুফাতো ভাই মামুনকে সৌদি আরব পাঠিয়েছে। ওই স্থানে দালাল রুবেলের সদস্যরা তাদের পাঁচ মাস আটকে রখে নির্যাতন করেছে। এ ঘটনার নিয়ে রুবেল ও সাইদুলের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এখন শুনতে পাচ্ছি রুবেল থানায় সাইদুল গাজীর বিরুদ্ধে টাকা ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।

দালাল রুবেল হাওলাদার দুই ভাইকে সৌদি আরবে পাঠানোর কথা স্বীকার  এবং নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে বলেন, সাইদুল গাজী লোকজন নিয়ে আমাকে মারধর শেষে টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। আমতলী থানার ওসি মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, সৌদি আরবে নির্যাতন ও মুক্তিপণের অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, মারধরের একটি অভিযোগ পেয়েছিলাম ওই বিষয়টি মিমাংশা হয়েছে।